১৯৭১ সালে কিশোর মতিন মুক্তিযুদ্ধে দুই পা হারিয়েছেন। তখন তিনি ক্লাস নাইনের ছাত্র। স্কুলশিক্ষক বাবার অমতেই একদিন গোপনে যুদ্ধে চলে যান মতিন। বাবা না জানলেও মা মমতা বেগম সেদিন মতিনকে সহযোগিতা করেন যুদ্ধে যাওয়ার জন্য। মতিনকে ভারতের ঢালু বর্ডারে ট্রেনিং ক্যাম্প পর্যন্ত পৌছে দিয়ে আসেন। ১২৫ টাকা আর নিজের গলার চেইন খুলে ছেলের হাতে দিয়ে মা বলেছিলেন, ‘বাবা, খাবারের কষ্ট হলে এই চেইনটা বিক্রি করবে। ভালো থেকো।’ চোখের জলে বিদায় দিয়েছিলেন মতিনকে সেদিন তার মা দেশ স্বাধীন করার আশায় ।
ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত বিজয়ের কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের তেলিখালী সিমান্তে যুদ্ধরত অবস্থায় মতিনের দুই পায়ে গুলি লাগে। কয়েকমাস চিকিৎসার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তার দুই পায়ের হাঁটুর নীচ থেকে কেটে ফেলতে হয়।
এমন এক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে তৈরি হলো নাটক ‘মুক্তির ছোট গল্প’।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত নাটক ‘মুক্তির ছোট গল্প’ লিখেছেন দৌলত হোসাইন। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মামুন খান। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সানজিদা প্রীতি, দৌলত, খলিলুর রহমান কাদেরী, ফরহাদ ঠাকুর ও সায়কা আহমেদসহ আরও অনেকে।
নাটকটির পরিচালক মামুন খান বলেন, ‘এই নাটকের মাধ্যমে একটি বাস্তবচিত্র সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সেই সাথে দর্শক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারবে বলে মনে করি। স্বাধীনতা দিবসে একুশে টিভিতে রাত ১০টায় নাটকটি দেখানো হবে।’








