মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপিয়ে দেয়া একপক্ষীয় অভিবাসন নীতি মানবে না বলে জানিয়েছে মেক্সিকো সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান জন কেলির মেক্সিকো সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন মন্তব্য করলেন মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস ভিদেগারে।
এ সফরে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের এই দু’জনের আমেরিকার নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনার কথা ছিল বলে জানায় হোয়াইট হাউজ।
অভিবাসন নীতির প্রতি সরাসরি নিন্দা জানিয়েছে মেক্সিকো। এই অভিবাসন নীতি এবং জাতীয় আইন অনুসারে কাগজপত্রবিহীন বা অবৈধ যে কোনো অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র দেশে ফেরত পাঠানোর অধিকার রাখে।
লুইস ভিদেগারে বলেন, ‘আমরা এই নীতি মানবো না কারণ এটি এক সরকারের ওপর আরেক সরকারের চাপিয়ে দেয়া একতরফা একটি সিদ্ধান্ত।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে ভিদেগার বলেন, প্রয়োজনে দেশটি অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি জাতিসংঘে তুলতে দ্বিধা করবে না।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিদেগারে জানিয়েছেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার রেক্স টিলারসন ও জন কেলি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিয়েতোর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। সেখানে প্রস্তাবিত মার্কিন অভিবাসন নীতি গুরুত্ব পাবে। হোয়াটহাউজ মুখপাত্র শন স্পাইসারও বড় একটি আলোচনা প্রত্যাশা
করছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, আমেরিকা থেকে বিতাড়িত হওয়ার এক ঘন্টার মধ্যেই এক মেক্সিকান আত্মহত্যা করেছেন। খুব তাড়াতারি ট্রাম্পের র্নিবাহী আদেশের প্রত্যাশা করছে যাতে ট্রাভেলের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এদিকে ‘ওলেকাম রিফিউজিস’ লেখা ব্যানারটি অবৈধভাবে কে বা কারা স্টাচু অফ লেবারটির সঙ্গে লাগিয়েছে তা তদন্ত করবে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস পুলিশ।
ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কাগজবিহীন অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে, যাদের অনেকেই মেক্সিকান। মাত্র ২০টি মেট্রো এলাকায় প্রায় ৭০ লাখ অভিবাসী বাস করে। এই অভিবাসী নিয়েই মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে সম্প্রতি উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রর সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ঘোষণার পর তা চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ট্রাম্প এ-ও বলেছেন, দেয়াল তৈরির খরচ মেক্সিকোর সরকারকে বহন করতে হবে।







