যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে কনসার্টে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনার পর বিভিন্ন দেশ তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে জাপান, সিঙ্গাপুর সহ অনেক দেশ নতুন করে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা ভাবছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ।
ম্যানচেস্টারের এ হামলায় ২২ জন নিহত ও অনেকে আহত হওয়ার পরপরই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। আর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, এ ঘটনার ওপর তারাও ঘনিষ্ঠ নজরদারি রাখছে।
জাপানের প্রধান কেবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিহিদ সুগা বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ইউনিট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছি।’
সিঙ্গাপুরে আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় ব্রিটনি স্পিয়ার্সের এক কনসার্টের আয়োজকেরা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা নিয়ে ভাবছেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান আইএমই এন্টারটেইনমেন্ট গ্রুপের কর্মকর্তা জোগেশ মেহতা বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই নিরাপত্তা জোরদারের চিন্তাভাবনা করছি আমরা।’এর ফলে ভবিষ্যতে উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে নিরাপত্তামূলক কড়াকড়ির মুখে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।
এ ঘটনার পর ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে হংকং। আগামী সেপ্টেম্বরে হংকংয়ে ‘এশিয়া ওয়ার্ল্ড এক্সপো’তে এক কনসার্ট করার কথা তারকা অারিয়ানা গ্রান্ডির।
বেইজিংয়ের কাছে হংকংয়ের দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার ২০তম বার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে আগামী ১ জুলাই। এ উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রত্যাশিত সফরকে সামনে রেখেও সেখানে এই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে আগামী আগস্ট মাসে বসবে ‘সামার উইনিভার্সিয়েড’ ক্রীড়া আসর। কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, তারাও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে উইনিভার্সিয়েডের মুখপাত্র রনে ইয়াং বলেন, ‘ম্যানচেস্টারের মতো বিভিন্ন হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনে আমরা এই প্রস্তুতি আরও জোরদার করব।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার পুলিশও জনগণের নিরাপত্তার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের কথা বলছে।
এছাড়া বাংলাদেশেও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরো জোরদার করার ব্যাপারে সরকারের উচ্চমহলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে।
এক যুগ আগে ২০০৫ সালের জুলাইয়ে লন্ডনের পরিবহনব্যবস্থাকে আত্মঘাতী হামলার নিশানা বানানোর পর দেশটিতে গত সোমবারের হামলাই ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। প্রায় এক যুগ আগের সেই হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৫২ জন।








