১ জানুয়ারি থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে জাতীয় যন্ত্রসংগীত উৎসব ২০১৮। সোমবার ছিল দশ দিনব্যাপী এই উৎসবের অষ্টম দিন। উৎসবটি চলবে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলছে এই উৎসব।
সোমবার নরসিংদী, মাগুরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, চুয়াডাঙ্গা ও পাবনা জেলার দলের যন্ত্রসংগীতের মূর্ছনায় উৎসব প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়। এছাড়াও ছিল জাতীয় পর্যায়ের যন্ত্রসংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী নিশিত দে ও এবাদুল হক সৈকত এর সেতার এবং শিল্পী মনিরুজ্জামান এর বাঁশী পরিবেশনা।
৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের নবম দিনে শিল্পী কামাল জহির শামীম এর পরিবেশনায় থাকছে সরোদ। এছাড়াও থাকছে গোপালগঞ্জ, ফেনী, মুন্সিগঞ্জ, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট ও কুমিল্লা জেলার পরিবেশনা।

বাঙালি বাদ্যপ্রিয় জাতি। বাঙালির যাপিত জীবনের সঙ্গে প্রায় ৬০০শত রকমের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। কিন্তু বর্তমান সংগীতে পাশ্চাত্য যন্ত্রের অতিমাত্রিক ব্যবহার অপর দিকে দেশীয় যন্ত্রের প্রতি উদাসীনতার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র। যন্ত্রশিল্পীরাও বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনার সুযোগ পরিবেশের অভাবে চর্চার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। জাতীয় যন্ত্রসংগীত উৎসব ২০১৮ এর লক্ষ্য হলো বাঙালি জাতির বাদ্যপ্রিয়তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ধরে রাখতে এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলা ও বাঙালির লুপ্তপ্রায়-প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে একটি সংগ্রহশালা নির্মাণ করা। এছাড়াও বাঙালি ও বাংলার বাদ্যযন্ত্র বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনার লক্ষ্য রয়েছে তাদের, যাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে দুর্লভ বাদ্যযন্ত্রের বায়োগ্রাফি ছবি, তথ্য ও ইতিহাস।
ইথনোমিউজিকোলোজিক্যাল রিসার্চের-এর মাধ্যমে পারিবারিক জীবনে, সমাজে, উৎসবে অর্থাৎ বাদ্যযন্ত্রের সামাজিক ইতিহাস ও বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রের সম্পর্ক সংক্রান্ত গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশনার প্রস্তুতি হিসেবে তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাদ্যযন্ত্র প্রস্ততকারক, মেরামতকারী, ক্রেতা, বিক্রেতা, বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারকারী ও শিল্পীদের জীবন আখ্যান, জীবিকা ও জীবন নির্বাহের অতীত ও বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হবে। বাংলার বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রসংগীতকে রক্ষা ও মানসম্মত চর্চাসহ নতুন প্রজন্মকে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে আগ্রহী করে তোলা এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।








