‘যতক্ষণ খেলাগুলোতে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ শার্ট (জার্সি) এবং একটি বাস পাচ্ছি, আমরা সেখানে থাকব এবং কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। অনুশীলন মাঠে এবং দলের মধ্যে মনোভাব-মানসিকতা ঠিক রাখতে আমরা নিজেদের মনোযোগ ধরে রাখি। প্রত্যেকে এব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারে। এখানে থাকতে পেরে আনন্দিত।’
ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ান ধনকুবের ও চেলসির মালিক রোমান আব্রামোভিচের সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ঘটনায় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যেতে থাকা চেলসির প্রতি ভালোবাসা ও দৃঢ় সমর্থনের কথা এভাবেই বললেন ব্লুজদের কোচ থমাস টুখেল।
ইংল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, আব্রামোভিচের তাই তড়িঘড়ি ছিল ক্লাব বিক্রির। সেই প্রচেষ্টায় আলোর মুখ দেখতে পারেননি এ রাশান। তার সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্তের প্রভাব চেলসির উপর পড়তে শুরু করেছে।
ক্লাবটির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ব্লুজরা নতুন খেলোয়াড় দলে নিতে বা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারবে না। বর্তমানে ক্লাবটিতে যারা খেলছেন, তাদের সঙ্গে করা যাবে না চুক্তি নবায়ন। এমনকি ম্যাচের টিকেটও বিক্রি করতে পারবে না চেলসি।
বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চেলসির ক্লাব শপ। তাদের জার্সির স্পন্সর মোবাইল ফোন কোম্পানি থ্রি অস্থায়ীভাবে ৫২ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্থগিত করেছে। চেলসির কিট বানানো ক্রীড়া পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাইকি ১৫ বছরের চুক্তির ইতি টানার কথা ভাবছে। ২০১৬ সালে চুক্তিটি হয়েছিল।
ভ্রমণ করার সময় ইংলিশ জায়ান্টরা ২০ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করতে পারবে না। টিভি সম্প্রচার ও পুরস্কার বাবদ অর্থ তারা পেতে থাকবে। আপাতত সেগুলো জব্দ করা রয়েছে।
চেলসিকে খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যদিও বিশেষ অনুমতি দেয়া আছে। তাদের কর্মকর্তারা সেই সুযোগ নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য সরকারের সাথে দেখা করেছেন।
এতসব নিষেধাজ্ঞাগুলোর কারণে চেলসির অস্তিত্ব টিকে থাকাই এখন সংশয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে নরউইচ সিটির বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পাওয়ার পর ব্লুজ কোচ জোর দিয়েই বলেছেন একাট্টা থাকার কথা, ‘এখন পর্যন্ত আমরা একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারি এবং এর কোনো পরিবর্তন হবে না।’
দলের এমন কঠিন সময় পার করা নিয়ে টুখেল বলেছেন, ‘জানি না আগামীকাল কী আসছে। সময়ের সাথে সাথে এটির প্রভাবের মাত্রা কত বড় হবে আমরা জানি না। আমরা এটিকে প্রভাবিতও করতে পারি না।’
‘এটি মিথ্যা হবে যদি বলি আমাদের কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু আমার অনেক বিশ্বাসও ছিল। কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা অনেক ভালো পারফরম্যান্স করেছি। যাতে আমাদের মানসিকতা এবং ক্লাবের সংস্কৃতিতে আস্থা রাখতে পারি। আমরা নিজেদের ফুটবলে মনোযোগ রাখতে চেয়েছিলাম।’
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২৭ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে চেলসি। সমান খেলায় ৬ পয়েন্ট বেশি পাওয়া লিভারপুল দুইয়ে। ২৮ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি।







