রাজধানীর পল্টনে কালভার্ট রোডে ওয়াসার খোলা ম্যানহোলে পড়ে এক ব্যক্তি মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা ওয়াসার এমডি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সিইও আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। রবিবার সকালে তারা আদালতে হাজিরা দেন। পরে আদালত তাদের দুজনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।
এর আগে আদালত এই দুইজনকে হাইকোর্টে হাজির হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন।
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র সমন্নয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৭ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল সহ এই আদেশ দেন।
ম্যানহোলে পড়ে ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় বিবাদীদের কর্তব্যে অবহেলাকে কেন দায়ী করা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির পরিবারকে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ড্রেনেজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রুলে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার রায়ে চারজনের ১০ বছর জেল, দুইজনকে খালাস দেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানার দণ্ড দেয়া হয়। তাদের প্রত্যেকের দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে পাইপে পড়ে জিহাদের মৃত্যু হয়েছে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়।
ওই মামলার আসামিরা হলেন- রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর হাউজের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে আবদুস সালাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জাফর আহমেদ শাকি, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দীপক কুমার ভৌমিক এবং সহকারী প্রকৌশলী-২ মো. সাইফুল ইসলাম।
২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে খোলা থাকা কয়েকশ ফুট গভীর এক নলকূপের পাইপে পড়ে যায় চার বছরের জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে কিছু তরুণের তৈরি করা যন্ত্রে পাইপের নিচ থেকে উঠে আসে অচেতন জিহাদ। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি বেঁচে নেই।







