দেওয়ানী, ফৌজদারি, দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য ও তামাদি আইনের মত মৌলিক আইনসমূহের বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রণয়ন ও প্রকাশ করতে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলা একাডেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বাংলা বিভাগ, আইন কমিশনের প্রতিনিধির সমন্বয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে এ কমিটি করতে বলেছেন। আর সেই কমিটিকে অবিলম্বে এবিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর করা রিটের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মো.আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো.ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুসহ আদেশ দেন।
রুলে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থবহভাবে বাস্তবায়ন করতে দেশের প্রচলিত মৌলিক আইনের বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রণয়ন ও প্রকাশে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আজ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্র পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মইনুল হাসান।
এর আগে মৌলিক আইনসমূহের বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রণয়ন ও প্রকাশ করতে লিগ্যাল নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী। নোটিশদাতা ১০ জন আইনজীবী হলেন; মোস্তাফিজুর রহমান, মীর ওসমান বিন নাসিম, মো: আসাদ উদ্দিন, মো: মুজাহিদুল ইসলাম, জোবায়েদুর রহমান, মো: আব্দুস সবুর দেওয়ান, আল রেজা মো: আমির, আব্দুল্লাহ হিল মারুফ ফাহিম, জি এম মুজাহিদুর রহমান ও মো: জহিরুল ইসলাম।
ওই নোটিশে বলা হয়, ‘আমাদের সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদে ‘বাংলা’কে একমাত্র রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছে। আর এই অনুচ্ছেদের বিধানকে পূর্ণরূপে কার্যকর করার উদ্দেশ্যে ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন প্রণয়ন করা হয়। সে আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে সকল কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় হতে হবে। এই আইনি বিধান সত্ত্বেও দেশের আদালতের অধিকাংশ রায় ও আদেশ এবং অন্যান্য কার্যাবলী ইংরেজীতে প্রদান করা হয়।’
লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়, ‘আদালতে মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন, চুক্তি আইন, তামাদি আইন ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মত মৌলিক আইন সমূহের গুরুত্ব ও ব্যবহার সর্বাধিক। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব মৌলিক আইনের কোনো নির্ভরযোগ্য বাংলা পাঠ প্রণয়ন করা হয়নি। আদালতে বাংলা ভাষা প্রচলনের স্বার্থে এ সকল আইনের বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রণয়ন ও প্রকাশ অত্যাবশ্যক। তাই মৌলিক আইনসমূহের বাংলায় অনুদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করছি। অন্যথায় নোটিশ দাতারা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবেন।’






