প্লে-অফের টিকিট পেতে বাঁচা-মরার ম্যাচে ১৭৫ রানের লক্ষ্য পেয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। টানা ৬ ম্যাচ খেলে একাদশের বাইরে ছিটকে যাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান ফিরেছেন, তবে উইকেটের দেখা পাননি। টাইগার বাঁহাতি পেসার ৪ ওভারে খরচ করেছেন ৩৪ রান।
জিততেই হবে, নয়তো টুর্নামেন্ট যাত্রা শেষ; মুম্বাইয়ের এমন সমীকরণের ম্যাচে রোববার ঘরের মাঠে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে অনেক আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া দিল্লি। পরে রিশভ পান্টের ফিফটিতে নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে ডেয়ারডেভিলসরা। ইন্ডিয়ান্সদের তাই বড় পরীক্ষাই দিতে হবে।
মোস্তাফিজ ম্যাচে বল হাতে পান চতুর্থ ওভারে। প্রথম বলেই উইকেট আসে রানআউটে। পৃথ্বি শ্বকে সরাসরি থ্রোতে ফেরান পান্ডিয়া। পরের বল কাভারে ঠেলে এক রান নেন ম্যাক্সওয়েল। তৃতীয় বল থর্ডম্যানে পাঠিয়ে এক নেন আয়ার। চতুর্থ বলে এক্সট্রা বাউন্সে ম্যাক্সওয়েলকে ডট করান ফিজ। পঞ্চম বলেও ডট, এবার মিডল স্টাম্পে বল রাখেন কাটার মাস্টার। শেষ বলে পড়িমরি দৌড়ে অবশ্য এক রান নিয়ে বাঁচেন অজি অলরাউন্ডার। শেষ হয় ৩ রানের দুর্দান্ত ওভার।
ষষ্ঠ ওভারে বলে এসে প্রথম বলেই চার হজম করেন ফিজ। রিশভ পান্ট কাভার-পয়েন্টের মাঝ দিয়ে বাউন্ডারি আদায় করে নেন। পরের বলটি ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারলেগে ঠেলে দুই, আর তৃতীয় বলে দ্রুত এক রান তুলে নেন পান্ট। চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে আয়ারকে ডট করান ফিজ। শেষ হয় ৭ রানের ওভার। পঞ্চম বলটি বাউন্স ও শেষ বলটি অফস্টাম্পের বাইরে দূরহ অ্যাঙ্গেলে ফেলেন বাঁহাতি পেসার।
আবার যখন বল হাতে পেলেন মোস্তাফিজ, তখন ১৫তম ওভার চলে। প্রথম বলে ডট করান পান্টকে। পরের বলে ছয় হাঁকান এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তৃতীয় বলে সোজা ব্যাটে খেলেছিলেন পান্ট, সেটি পা দিয়ে ঠেকাতে যেয়ে আঘাত নিয়ে মাটিতে বসে পড়েন ফিজ। স্থির হয়ে যায় টিভিতে চোখ রাখা বাংলাদেশি সমর্থকদের দৃষ্টি! টিভিস্ক্রিনে ফিজের বেদনার্ত মুখ দেখে শুরুতে পরিস্থিতি জটিল বলেই মনে হচ্ছিল।
ব্যাটসম্যানরা ওদিকে দুরান নিয়ে ফেলেছেন। মোস্তাফিজ ক্রিজের পাশে বসা। সতীর্থরা দ্রুত ছুটে আসেন। ফিজ ততক্ষণে জুতা-মোজা খুলে ফেলেছেন। টাচলাইন থেকে ছুটে আসেন মুম্বাইয়ের ফিজিও। খানিক সেবা-যত্ন চলে। অবশ্য দ্রুতই বোলিং মার্কে ফেরেন মোস্তাফিজ।। চতুর্থ বলটা ডট করান পান্টকে। পরের বলে এক নিয়ে ৩৪ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন পান্ট। শেষ বলে শঙ্কর চার হাঁকান। শেষ হয় ১৩ রানের ওভার।
চার ওভারের কোটা পূরণে ফিজের ডাক পড়ে ১৮তম ওভারে। অভিষেক এক তুলে নেন প্রথম বলে। দ্বিতীয় বল ডট। পরের বলে এক তুলে নেন শঙ্কর। চতুর্থ বলে ছক্কা হজম করতে হয় ফিজকে। বাঁহাতি অভিষেক লেগ দিয়ে উড়িয়ে বাউন্ডারি ছাড়া করেন বল। অফস্টাম্পের বাইরে স্লোয়ার করা পঞ্চম বলে দুই, আর শেষ বলে এক রান খরচে শেষ হয় ১১ রানের ওভার।
মোস্তাফিজের ফেরার দিনে ক্রুনাল পান্ডিয়া দারুণ বল করেছেন, ২ ওভারে ১১ রানে এক উইকেট। বুমরাহ ৪ ওভারে ২৯ রানে একটি উইকেট পান।
পান্ট ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন ৪৪ বলে, ৪টি করে চার-ছক্কায়। ম্যাক্সওয়েল ২২ রান করেন। শেষদিকে ঝড় তোলেন অভিষেক শর্মা ও বিজয় শঙ্কর। ১০ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন শর্মা। আর ৩ চার ২ ছয়ে ৩০ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের অবদান শঙ্করের।








