নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের ম্যাচেও অনেকগুলো ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। যার একটি মোস্তাফিজুর রহমানকে স্বরূপে দেখতে পাওয়া। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফিজের কথা আলাদা করেই বলেছেন টাইগার অধিনায়ক। শুক্রবারের ম্যাচেও অধিনায়ককে হতাশ করেননি কাটার মাস্টার। ওয়ানডেতে আরেকবার চার উইকেট তুলে নিয়ে চেনারূপটাই দেখালেন মোস্তাফিজ।
ডাবলিনের মালাহাইডে আইরিশদের ১৮১ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা খেলতে পেরেছে মাত্র ৪৬.৩ ওভার। মোস্তাফিজের তাই এক ওভার হাতে থাকলেও পাঁচ উইকেট নেয়ার সুযোগটা হাতছাড়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৯ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৩ রানে ৪ উইকেট। যাতে দুটি মেডেনও আছে। আর ৫৪টি বলের ৪৩টিই ছিল ডট।
এদিন শুরু থেকেই বলে আগুন ঝরাচ্ছিলেন ফিজ। ব্যাটসম্যানরা বলের নাগাল পেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ছিল কাটার-স্লোয়ারের মত ভয়ঙ্কর অস্ত্রগুলোও। নিজের প্রথম ওভারে দুই ইনসুইঙ্গার করার পর তৃতীয় ডেলিভারিতে উইকেট নিয়ে শুরু। ব্যাক-লেন্থে লাফিয়ে ওঠা বলটি ডিফেন্স করতে যেয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ পল স্টার্লিং। ওই ওভারটি মেডেন-উইকেট।
মোস্তাফিজ পরে ফিরিয়েছেন আরো তিনজনকে। নেইল ও’ব্রায়েনকে তামিমের চমৎকার ক্যাচে, কেভিন ও’ব্রায়েনকে মোসাদ্দেকের তালুবন্দী করার পর গ্যারি উইলসনকে শর্ট বলে মুশফিকের গ্লাভসে জমা করে আইরিশ মিডলঅর্ডারে ধ্বস নামিয়েছেন কাটার মাস্টার।
মোস্তাফিজ ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন তিনবার। যার দুবার অভিষেকের টানা দুম্যাচে। আর সর্বশেষ ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন ২০১৫ সালের নভেম্বরে। দীর্ঘ বিরতি। অবশ্য এক বছর বিরতির পর ওয়ানডেই খেলেছেন গত বছরের ডিসেম্বরে। মাঝখানের চোট, পুনর্বাসন, ফেরার পর নিজেকে খুঁজে ফিরতে থাকা। শুক্রবারের আইরিশ ম্যাচের পর মনে হচ্ছে চেনা ছন্দটা ফিরে পাওয়ার খুব কাছাকাছি ফিজ। নিজের অস্ত্রগুলোর মরচেও খসে যাচ্ছে দ্রুত।
গত ম্যাচে ক্লনটার্ফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ ওভারে ৩৩ রানে তুলে নেন ২ উইকেট। এরপর মালাহাইড। চ্যম্পিয়ন্স ট্রফির যাত্রার আগে দলের জন্যই আশারসঞ্চারি। ইংল্যান্ডে ফিরে মোস্তাফিজেরও যে কিছু হিসেব চোকানোর আছে। সাসেক্সে খেলতে যেয়ে সদর্পে মাঠ মাতাচ্ছিলেন। সেখানেই কাঁধের চোটটা পান। এবার ফিরছেন ইংলিশ ভূমিতে। ক্লাবের হয়ে নয় যদিও, তবে জাতীয় দলের জার্সিতেই বোলিং জাদুটা দেখিয়ে নিশ্চয় সেই অতীত ভুলতে চাইবেন ফিজ। আয়ারল্যান্ডে চলছে সেটারই মহড়া।








