বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ক্রমাগত সামনে এগোচ্ছে। ঝড় মোকাবিলায় কক্সবাজারে নেয়া হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি। আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্য মতে, সেটি আরও উত্তর দিকে সরে কক্সবাজারের উপকূল থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের সার্বিক প্রস্তুতির জন্য বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ মোকাবেলা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির বিশেষ সভায় জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, কক্সবাজার জেলার উপকূলবর্তী ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৫ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্বক্ষণিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে উপকূলীয় এলাকায় সর্তকতামূলক মাইকিংসহ নিরাপত্তা আশ্রয়ের জন্য প্রচারণার কাজ শুরু করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় নেয়া হবে।
মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্য ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড় মোরা আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার ভোরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় ঘণ্টায় ৭০-৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি সমুদ্র বন্দরের খুব কাছ দিয়ে অথবা ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে৷
৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হলেও কক্সবাজারের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। রাতে মাঝারি আকারে বৃষ্টিপাত হলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘলা রয়েছে। সমুদ্র স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে একটু উত্তাল রয়েছে। ঢেউয়ের সংখ্যাও বেশি। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলো ফিরে আসছে।
আবহাওয়া অফিস বলেছে, সন্ধ্যা নাগদ সমুদ্র আরো বেশি উত্তাল হয়ে উঠবে। এতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিক চেয়ে ৪-৫ ফুট বৃদ্ধি পাবে, যার কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।








