মোদি এলেন এবং ফিরেও গেলেন। এর মধ্যেই হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক। চাওয়া-পাওয়ার হিসেব-নিকেশ করলে কি পেলো বাংলাদেশ? আর কতোটাই বা দিতে হলো ভারতকে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনেই। জবাব খোঁজার চেষ্টা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। কারো দাবি বাংলাদেশ অনেক কিছুই পেলো, আবার কেউ বলছেন, বাংলাদেশ যা পেয়েছে তা যথেষ্ট নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আশেকা ইরশাদ মোদির এই সফরকে তার ব্যক্তিগত গুড ইমেজ বিস্তার ভ্রমণ এবং রাজনৈতিক কিছু এজেন্ডা বাস্তবায়নের ভ্রমণ হিসেবেই মনে করেন।
তাহলে কি বাংলাদেশের প্রাপ্তির ঝুলিতে কিছুই নেই? তিনি জবাব দিলেন, স্থলসীমা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এই ভ্রমণের ফলে সামনে আরও কিছু প্রাপ্তি অর্জনের আবহও তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন কিছু চুক্তির প্রেক্ষাপটও। তবে প্রাপ্তিটা অর্জন করতে আমাদেরকেই আরো বেশি সচেতন হতে হবে, নিজেদের ভালোটা আদায় করে নিতে হবে নিজেদেরকেই।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের আরেক বিশ্লেষক আমেনা মোহসীন মোদির এই সফরকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন। ‘সফরের ফলে বাংলাদেশের মানুষ মোদিকে দেখলো, তার কথা শুনলো, তাকে বুঝলো। আর সবচেয়ে বড় কথা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কটাও উন্নত হলো, সেটাই বা কম কিসে?’
মোদির বাংলাদেশ সফরে চালু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আরো দুটি রুটে বাস সার্ভিস। বাংলাদেশ ও ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন আশেকা ইরশাদ। তিনি বলেন: যোগাযোগ এখন উন্নত হবে বটে, তবে সেক্ষেত্রে তারা ভিসা উন্মুক্ত করে দেবার ব্যাপারটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে রাখতে পারতো। তিস্তা চুক্তিও এবার বাস্তবায়ন হলো না। সবমিলিয়ে আপাত দৃষ্টিতে আমরা যে খুব বেশি কিছু পেয়েছি তা নয়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সদস্য হতে সমর্থন চেয়েছে ভারত। সেটাতে বাংলাদেশের সমর্থন আছে দাবি করে আশেকা ইরশাদ বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের চাওয়াগুলো আদায় করেই ছাড়তে হবে। ভারত যদি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয় তাহলে তাহলে বাংলাদেশের নীতিমালা ও মূলনীতি দিয়েই তাদের কাছ থেকে আমাদের পাওনা আদায় করে নিতে হবে।
এই সফরে বাংলাদেশ বেশি পেলো নাকি ভারত? সেই হিসেব কষতে রাজি নন আমেনা মোহসীন। বলেন, দুই পক্ষই নিশ্চয়ই লাভবান হয়েছে। আর দুই দেশের মধ্যে যে যোগাযোগ সেটাও আরো গভীর হলো।
দুই দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি আরো বাড়ানোর কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক। সীমান্তে হত্যা বা তিস্তার ব্যাপারটা নিয়েও আলোচনা এগোনোর আশা করেছিলেন তিনি। বলতে গেলে পুরো দেশই আশা করেছিলো, কিন্তু সেই ব্যাপারে শূন্যতাটা থেকেই গেলো বলে মন্তব্য তার।
আমেনা মোহসীন বলেন, দেশের মানুষ আগেই জানতো কি কি হতে যাচ্ছে। সেখানে প্রত্যাশা ছিলো তিস্তা নিয়েই। সেটাই যখন হলো না তখন বলতে হয় মানুষের চাওয়া অনেকটাই অপূর্ণ থেকে গেলো। তিস্তার ব্যাপারটি অবশ্যই এবারের মোদি সফরের আলোচ্যসূচিতে থাকা উচিত ছিলো বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের দিক থেকে অপ্রাপ্তি আর প্রাপ্তি মিলিয়েই বাংলাদেশ ভ্রমণ করে গেলেন নরেন্দ্র মোদি। এবারে তিস্তা চুক্তি বা ভিসার ব্যাপারে তেমন অগ্রগতি না হলেও আরো নতুন কিছু পাওয়ার পথ তৈরি হলো এই ভ্রমণে, এমনটাই দাবি বিশ্লেষকদের।






