যানজটের ঢাকায় চাকরিজীবী থেকে শুরু শিক্ষার্থীদের অনেকেই উবার মোটো, পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল সেবার দিকে ঝুঁকছে। পাল্লা দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আওতাধীন মোটরসাইকেল ও চালকের সংখ্যাও বাড়ছে। একইসঙ্গে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল সেবা নিয়ে অভিযোগ-অসন্তুষ্টিও বেড়ে চলেছে। নিয়মিত ব্যবহারকারী-যাত্রীদের অভিযোগ রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো যাত্রী নিরাপত্তার ব্যাপারে নির্বিকার-উদাসীন।
উবার, পাঠাও ব্যবহারকারীদের মোটরসাইকেল সেবা নেয়ার অভিজ্ঞতা জানতে ফেসবুকে সক্রিয় ‘উবার ইউজার্স অব বাংলাদেশ’ এবং ‘পাঠাও ইউজার্স অব বাংলাদেশ’ নামের দু’টি গ্রুপে কয়েকটি প্রশ্ন লিখে পোস্ট করে চ্যানেল আই অনলাইন। পোস্ট দেয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে উবার ব্যবহারকারীদের ১ লাখ ৮৫ হাজার সদস্যের গ্রুপটি তা অনুমোদন করে। কিন্তু অজানা কারণে একই পোস্ট অনুমোদন করেনি ১ লাখ ৮৩ হাজার সদস্যের গ্রুপ ‘পাঠাও ইউজার্স অব বাংলাদেশ’!
ফেসবুকে উবার ইউজার্স অব বাংলাদেশ গ্রুপে কয়েকজন চ্যানেল আই অনলাইনের করা পোস্টের মন্তব্যে জানান, বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালক নিজে হেলমেট পরলেও যাত্রীর জন্য হেলমেট রাখে না। অনেক চালক নামেমাত্র হেলমেট রাখলেও সেটা পরার যোগ্য নয়। মোটামুটি মোটরসাইকেল চালাতে পারে এমন রাইডারও পাওয়া যাচ্ছে। অদক্ষ ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকের কারণে দুর্ঘটনাও বেড়ে চলেছে।

এই গ্রুপে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আলাল আহমেদ, আল রাশেদের মতো কয়েকজন ব্যবহারকারী-যাত্রীর সরাসরি অভিযোগ পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল সেবার বিরুদ্ধে।
তাদের অভিযোগ হেলমেট ছাড়া রাইড দেয়া, আনাড়ি ও বেপরোয়া চালকদের দেদারসে রাইড শেয়ারিং সেবায় অন্তর্ভুক্ত করছে পাঠাও।
পাঠাওয়ের ওয়েবসাইটে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানটির হয়ে গাড়ি এবং মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ৭টি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি দেয়া আছে। কিন্তু এসব লঙ্ঘনে চালকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তা বলা নেই।
হেলমেট নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে শুরু থেকেই সমালোচনা থাকায় সম্প্রতি মোটরসাইকেলে যাত্রীর জন্য হেলমেট ছিলো কিনা জানতে রাইড শেষে যাত্রীর জন্য একটি অপশন চালু করেছে পাঠাও।
তবে হেলমেট না থাকলে চালকের বিরুদ্ধে আদৌ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় কিনা তা জানা যায়নি।
যাত্রীদের অভিযোগ ও চলতি পথে যাত্রী সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পাঠাও ওয়েবসাইটে দেয়া টেলিফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও ওপাশ থেকে কেউ রিসিভ করেনি। এমনকি ২ জুলাই যাত্রীদের অভিযোগ সম্পর্কে পাঠাওয়ের বিবৃতি পেতে প্রতিষ্ঠানটির লিড মার্কেটিং ম্যানেজারকে ই-মেইল পাঠানো হলেও ৫ জুলাই পর্যন্ত কোন জবাব পায়নি চ্যানেল আই অনলাইন।
এরই মধ্যে পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল যাত্রী থাকা অবস্থায় ৪ জুলাই সকালে রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডে মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ফুয়াদ নামে এক যুবক দুর্ঘটনায় নিহত হন। সে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। ওই ঘটনায় আহত হন রাইড দেয়া চালক।
দুর্ঘটনাটির তদন্তকারী বিমানবন্দর থানার সাব-ইন্সপেক্টর শরীফ হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, গতকাল ঘটনাস্থলে নাজমুলকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালকের হেলমেট পাওয়া গেলেও মরদেহে পরিহিত বা আশেপাশে আর কোন হেলমেট খুঁজে পায়নি পুলিশ।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নাজমুলকে বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়া বাস চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিন্তু হেলমেট না রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখা বা না রাখায় ওই মোটরসাইকেলের চালক এবং পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
কিছুটা স্বস্তি দিতে উবারের উদ্যোগ
সম্প্রতি যাত্রাপথে চালক এবং যাত্রীর সুরক্ষার বিষয়ে স্বস্তি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে উবার। ৬ জুন বিশ্বের ৬’শর বেশি শহরে রাইড শেয়ারিং সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে উবারের গাড়ি এবং মোটরসাইকেল চালক-যাত্রীদের জন্য ইন্সুরেন্স পদ্ধতি চালু করার ঘোষণা দেয়। ইন্সুরেন্সে উবার মোটো এবং উবারের চার চাকার যানবাহন ব্যবহারকারী ট্রিপ চলাকালে (ব্যবহারকারীর যাত্রা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত) দুর্ঘটনায় মারা গেলে, স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেলে অথবা হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে এই ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
এই সুবিধার আওতায় দুর্ঘটনায় উবার ব্যবহারকারীর মৃত্যু হলে ২ লাখ টাকা, স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন।
যাত্রীদের অভিযোগ ও নিরাপত্তা বিষয়ে উবারের বক্তব্য জানতে চাইলে উবারের মুখপাত্র চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: যাত্রীদের করা সব অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা সবসময় চালকদের দেশীয় আইন-বিধিমালা মেনে চলতে বলি। কোনো চালক এসব লঙ্ঘন করেছে প্রমাণ পেলে ওই চালকের উবারে কোন একাউন্ট রাখা হবে না। যাত্রী আমাদের চালকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দিতে চাইলে অ্যাপে থাকা সাপোর্ট অপশনে জানাতে পারেন। যাত্রী ও চালকরা সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হলেও আমরা পাশে আছি।








