আফগানিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছে, মেয়েদের প্রকাশ্যে গান গাওয়া নিষিদ্ধ করে সম্প্রতি যে ঘোষণা তারা দিয়েছিল, তা মূল্যায়ন করা হবে।
নতুন এক বিবৃতিতে রোববার মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘোষণা তাদের নিজেদের অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে না। ঘোষণাটি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
কয়েকদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশ জারি করে বলেছিল, ‘১২ বছরের বেশি বয়সী কোনও স্কুলছাত্রী প্রকাশ্যে গান গাইতে পারবেন না। বিশেষ করে পুরুষদের সামনে কোনোভাবেই গান গাওয়া যাবে না। এমনকি পুরুষ শিক্ষকরা স্কুলে বা অন্য কোথাও মেয়েদের গান শেখাতে পারবেন না।
এতে আরও বলা হয়, কেবল শতভাগ নারী সমাবেশেই গান গাওয়ার অনুমতি পাবে আফগান মেয়েরা।
মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশের পর তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেক মেয়ে ‘আই অ্যাম মাই সং’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে গানের ভিডিও পোস্ট করা শুরু করে।
অনেকে আবার এর জন্য আফগান শিক্ষামন্ত্রী রঙ্গিনা হামিদিকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। তাদের অভিযোগ, হামিদি নিজেও নারী আন্দোলনের অংশীদার ছিলেন, তিনি কীভাবে এমন নির্দেশনা জারি করলেন?
আফগানিস্তানের প্রখ্যাত লেখিকা শাফিকা খাপালওয়াক তার প্রতিক্রিয়ায় টুইটারে লেখেন, ‘সৃষ্টিকর্তা আমাদের ক্ষমা করুন। মানুষ জাতি এত নিষ্ঠুর যে তারা এমনকি একটি শিশুকেও লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখে।’
অনেক নারী এই নিষেধাজ্ঞাকে তালেবান শাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তালেবান শাসনামলে আফগানিস্তানে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া ও অধিকাংশ গান নিষিদ্ধ ছিল।
অবশ্য নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পর আফগান প্রশাসন দাবি করে, অভিভাবকদের অনুরোধেই মেয়েদের গান গাওয়ায় এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।








