দেশে নারীর ক্ষমতায়ন আগের তুলনায় ইতিবাচক পরিস্থিতিতে থাকলেও প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় এখনো নারীর জ্ঞানার্জন এবং উপার্জনকে সহজভাবে দেখা হয় না।
পরিবারের অসহযোগিতায় শিক্ষিত নারীকেও কেবলই একজন সংসারী গৃহিনী হতে হয় ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়।
যাত্রাপথে এমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে রাজনীতিবিদ রাজেকুজ্জামান রতন ফেসবুকে লিখেছেন,‘ময়মনসিংহে গিয়েছিলাম ২৩ অক্টোবর রাতে । পরদিন সকালে ইজি বাইকে উঠলাম টাউনহলে যাব বলে । কিছুক্ষণ পর স্কুল ড্রেস পরা এক ছোট মেয়ে তারপর এক তরুণী মাতা সন্তান কোলে নিয়ে ইজি বাইকে উঠে বসলো । ছোটদের দেখলেই তো আমার কথা বলতে ইচ্ছে করে । কথা বলার সহজ সুত্র অনুযায়ী জিজ্ঞেস করলাম, কিসে পড় ? মেয়েটি বললো, ক্লাস সেভেনে । জানতে চাইলাম, বড় হয়ে কি হতে চাও ? মেয়েটি হাসিমুখে চুপ করে রইলো । তরুনী মা কোলের বাচ্চাটাকে সামলে নিয়ে অনেকটা স্বগতোক্তির মত করে বললো, মেয়েদের আর বড় হওয়া ! এত শুদ্ধ এবং স্পষ্ট উচ্চারণে মেয়েটি কথা বললো যে অবাক হয়ে যাবার মত । জিজ্ঞেস করলাম তুমি কি কর ? বললো, আংকেল আমি মাস্টার্স করছি বাংলায় । বললাম, কোথায় যাচ্ছ ? বললো, কলেজে । বাসায় দেখার কেউ নাই, তাই ছেলেকে সংগে নিয়েই যাচ্ছি”। জানতে চাইলাম, পাশ করে কি করবে ? ম্লান হেসে বললো, “কি আর করবো, রান্না বান্না করবো, বাচ্চা দেখবো । মেয়েদের আর কি কাজ ?”
অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম, দেখছো না , মেয়েরা এখন কত কাজ করছে ? এবং ভালভাবেই করছে ।”
মেয়েটা মলিন মুখে তার বাচ্চা কে দেখিয়ে বললো, “ওর বাবা বলে দিয়েছে, কোন চাকরী করতে দেবে না”।
বললাম, তাহলে এত পড়াশুনা করে কি লাভ হলো তোমার ? দীর্ঘশ্বাস চেপে মেয়েটি বললো,”আমাদের মেয়েদের আবার পড়াশুনা ?”







