ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর ২টা। বিসিবিতে নিয়মিত হাজির হওয়া সকলের চেনা গাড়িটা ঢুকে পড়ল গেট দিয়ে। পার্কিংয়ে গাড়ি রেখে মেয়েকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে এলেন সাকিব আল হাসান। সোজা ঢুকে গেলেন শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।
ড্রেসিংরুমে থাকা ওয়ার্মআপের ফুটবলটা সাকিব তুলে দিলেন মেয়ের হাতে। অমনি বল নিয়ে সবুজ মাঠে ছোটাছুটি শুরু করে দিল আড়াই বছরের আলাইনা হাসান অউব্রি।
বলের উপর চোখ রেখে বাঁ-পায়ে অউব্রিকে কিক করতে দেখে সাকিবকে উদ্দেশ্য করে উপস্থিত একজন বলে উঠলেন, খেয়াল করেছেন বাঁ-পায়ে খেলে! সাকিব মৃদু হেসে প্রতিউত্তর করলেন, মেয়েকে ফুটবলার বানাব।
বাবা-মেয়ের ফুটবল চলল অনেকক্ষণ। ফুটবলের প্রতি সাকিবের ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই। হতে চেয়েছিলেন ফুটবলারই। কিন্তু তিনি এখন ক্রিকেটের বিশ্বসেরা তারকাদের একজন।

সাকিবের বাবাও ফুটবল খেলতেন। ক্রিকেটার বাবা তাই চাইছেন মেয়ে ফুটবলার হোক। সোমবার হোম অব ক্রিকেটে যেন সেটারই মহড়া চলল!

মেয়ের সঙ্গে খেলে ক্লান্ত হয়ে একসময় ড্রেসিংরুমে চলে গেলেন সাকিব। টি-টুয়েন্টি সিরিজের দলে থাকা ক্রিকেটাররা তখন ঢুকতে শুরু করেছেন সাজঘরে, তাদের সঙ্গে সময় কাটালেন আঙুলের চোট-পুনর্বাসনে সিরিজে খেলতে না পারা সাকিব।
অউব্রি তখন মাঠে আনন্দ করে চলেছে। গৃহসহকারী তাকে নিয়ে গেলেন ড্রেসিংরুমের সামনের ডাগআউটে। দুরন্ত অউব্রি সেখানেও চেষ্টা করে গেল বলে লাথি মারার। কখনও আবার বলটা জড়িয়ে ধরে ভাবুক নয়নে চুপ করে তাকিয়ে থাকল হোম অব ক্রিকেটের বিস্তৃত ভূমিতে।

টি-টুয়েন্টি দলের অনুশীলন শুরু হয়ে যাবে কিছুক্ষণ পরই। সাদা ক্রিকেট বলগুলো রাখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ক্রিকেটার বাবার মেয়ে অউব্রির লোভ হল বল ধরতে। ধরে ছুঁড়ল বাঁহাতে। সাকিব নিজেও বাঁহাতি। ব্যাট-বল দুটোই করেন বাঁহাতি। মেয়েও তাই।

আঙুলের ইনজুরির কারণে টেস্টের পর টি-টুয়েন্টি সিরিজও খেলা হবে না সাকিবের। তবে শেষ ধাপের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সোমবার। দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও সময় দিচ্ছেন। জাতীয় দলে না থেকেও তাই আছেন সাকিব। আর দুঃসময়ে তার সঙ্গী মেয়ে অউব্রি।









