অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে বার্সেলোনা। লিওনেল মেসি কাতালানদের জার্সিতে ৪০০তম জয়ের ম্যাচটি স্মরণীয় করে রেখেছেন জয়সূচক গোল করে। অন্য গোলটি রাফিনহার। স্বাগতিকদের সান্ত্বনার গোলটি ডিয়েগো গডিনের।
ভিসেন্তে ক্যালদেরনে রোববার রাতের জয়টি স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে নয় নম্বর জয়। এনরিকের আমলে অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে বার্সার ১২বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে সিমিওনের দল জিতেছে মাত্র একটিতে, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র।
এই জয়ে স্প্যানিশ লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠেছে বার্সেলোনা। ২৪ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট তাদের। সমান ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সেভিয়া। দুই ম্যাচ কম খেলে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাতেই শীর্ষে ফেরার সুযোগ পাচ্ছে জিনেদিন জিদানের দল। সেজন্য ভিয়ারিয়ালের মাঠ থেকে জিতে ফিরতে হবে রোনালদোদের।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করে অ্যাটলেটিকো। ১৬ মিনিটে গোলের সুযোগও হাতছাড়া করেন গাবি। গ্যামেইরোর চিপে বার্সার বক্সের ভেতরে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলমুখ খুলতে পারেননি তিনি।
এর মাঝে মেসির একটি জোরালো শট ক্রসবারের ওপর ছুঁয়ে যায়। ম্যাচের ২৭ মিনিটে গ্রিজমানের দুর্দান্ত শট দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন বার্সা গোলরক্ষক আন্দ্রে টের স্টেগেন।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে মেসির শট আটকে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক। কিন্তু পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। পরে গোলরক্ষক ও সুয়ারেজের বল কাড়াকাড়ির মাঝে ফিলিপে লুইস শট নিয়ে ক্রসবারে লাগান। ফিরতি বলে হেড করে জাল খুঁজে নিয়েছিলেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। কিন্তু রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে তাকে হতাশ করেন।
পরে অ্যাটলেটিকো পাল্টা আক্রমণে বার্সাকে পরীক্ষায় ফেলে। ৩৪ মিনিটে গ্রিজমানের বুলেট শট বিপদমুক্ত করেন স্টেগেন। বার্সাও পিছিয়ে ছিল না। ৩৬ মিনিটে সুয়ারেজের শট ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। একটু পরই মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কোনোমতে ঠেকান ওবলাক।
প্রথমার্ধের মিনিট সাতেক আগ থেকে আরো জোরালোভাবে খেলায় ফেরে বার্সেলোনা। ৪৩ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে হেড করে আশা জাগিয়েছিলেন পিকে। ওবলাক তাতে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। এতে গোলশূন্য থেকেই প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়ে দু’দল।
বার্সেলোনার দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হয় সুয়ারেজের সহজ সুযোগ নষ্টের মধ্য দিয়ে। কিন্তু ম্যাচের ৬৪ মিনিটে আর পারেনি অ্যাটলেটিকো। এসময় বক্সের জটলা থেকে বল পেয়ে বার্সাকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রাফিনহা।
তবে ম্যাচের লাগাম বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি অতিথিরা। ৭০ মিনিটে স্বাগতিক সমর্থকদের আনন্দে ভাসান ডিয়েগো গডিন। বক্সের বাইরে থেকে কোকের দারুণ ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান উরুগুয়ের ডিফেন্ডার গডিন।
এরপরই মেসি ম্যাজিক! ফুটবল জাদুকর ৮৭ মিনিটে স্বাগতিকদের বক্সে জটলার মধ্য থেকে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন। প্রথমবার অ্যাটলেটিকোর ডিফেন্ডার দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেও দ্বিতীয় চেষ্টায় দলকে জয়সূচক গোলের আনন্দে ভাসান মেসি। পুরো ম্যাচে কিছুটা অচেনা থাকা মেসির সেটাই হয়তো ছিল সেরা ঝলক। তাতেই বাজিমাত!
পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেওয়ার সঙ্গে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার কাতালান জার্সিতে তুলে নেন নিজের ৪০০তম জয়। ২০০৪ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল মেসির। এই সময়ের মধ্যে বার্সার হয়ে সবধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৬৫তম ম্যাচে ৪০০তম জয়টি এলো তার। বাকি ৬৪ ম্যাচে হার এবং ১০২ ম্যাচে ড্রয়ের স্বাদ পেয়েছেন এলএম টেন।
দারুণ কীর্তির রাতে রেফারির সঙ্গে বাক্য বিনিময় করে ম্যাচে হলুদ কার্ডও পেতে হয়েছে মেসিকে। সেটি যেনো জাদুকরের বেশে মানুষ মেসিকেই সামনে টেনে আনল আরেকবার!








