টানা ১২ বছর পর ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের শীর্ষ তিনে নেই তিনি। সেটা যে বিস্ময়জাগানিয়া, তা বুঝিয়ে দিতেই যেন দারুণ এক পারফরম্যান্সে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু করলেন লিওনেল মেসি। ইউরোপ সেরার লিগে আটনম্বর হ্যাটট্রিক করে গড়েছেন রেকর্ডও। যে নজির অন্যকারও নেই। ম্যাচের শেষে রেফারির কাছ থেকে বলটি চেয়ে নিয়ে একেবারে উচ্ছ্বাসহীনভাবে মাঠ ছাড়েন এলএম টেন।
মঙ্গলবার রাতে বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ডাচ ক্লাব আইন্দভেনকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে মেসি-সুয়ারেজরা। বেশ কয়েকটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে বার্সা আরও বড় জয়েই মাঠ ছাড়তে পারত। কাতালানদের একহালি গোলের অন্যটি ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকার উসমানে ডেম্বেলের।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মৌসুম শুরুর রাতে মেসির প্রথম গোল আসে ফ্রি-কিক থেকে। গত পাঁচ বছরে কাতালানদের হয়ে ফ্রি-কিক থেকে ২৫টি গোল করলেন মেসি। ইউরোপের পাঁচ লিগে সবচেয়ে বেশি।
ম্যাচে মেসিদের জন্য খারাপ খবর একটাই। শেষদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লালকার্ড হয়ে ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতির মাঠ ছাড়া। পরের ম্যাচে এই ফরাসি তারকাকে পাচ্ছে না বার্সা।
বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি আইন্দভেন। মেসি ৩১ মিনিটে প্রথম গোল করেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধ্বের ৭৪ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেম্বেলে। আর ৭৭ ও ৮৭ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।
তাতে ছাড়িয়ে গেছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের তালিকায় শীর্ষে উঠেছেন। ইউরোপের মঞ্চে ৭টি হ্যাটট্রিক ছিল সিআর সেভেন ও মেসির। সেই রেকর্ডটি একার করে নিলেন মেসি, অষ্টম হ্যাটট্রিক করে।
নতুন মৌসুমে অধিনায়ক হয়ে মেসি বলেছিলেন, ‘এবার আমাদের প্রধান লক্ষ্য একটাই। ইউরোপ সেরা হওয়া।’ আর্জেন্টাইন মহাতারকার সৌজন্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উড়ন্ত অভিযান শুরু করল বার্সেলোনা। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ব্যর্থতার পরে ক্লাব ফুটবলে ফিরেই মেসি দেখালেন চিরচেনা ম্যাজিক। একটি অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক থেকে গোল এবং অসাধারণ দু’টি প্লেসিংয়ে নিজের হ্যাটট্রিক। ক্যাম্প ন্যু’তে মেসির সিংহাসন অটুটই থাকল। বার্সাও তাদের প্রথম ম্যাচ জিতে নিল হাসতে হাসতে।
বার্সার রাতে টটেনহ্যামের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিতেছে ইন্টার মিলান। ৫৩ মিনিটে এরিকসেনের গোলে এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত তারা এই লিড ধরে রেখেছিল। কিন্তু ৮৫ মিনিটে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মাউরো ইকার্দির গোলে সমতা ফেরায় ইন্টার। আর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয় এনে দেন ভেসিনো। জয় ২-১ গোলের।







