তিন বছরের খরা কেটেছে। সোমবার ষষ্ঠবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর আবারও উঠেছে লিওনেল মেসির হাতে। যাতে ভেঙে গেছে যাবতীয় রেকর্ড। ডেভিড বেকহ্যাম অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেও এ বিরল সম্মানের জন্য মেসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মেসিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও।
২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৫-র পর ২০১৯। রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে ৬বার এই সম্মাননা পাওয়ার পর উচ্ছ্বসিত মেসি বলেছেন, ‘আমি খুবই ভাগ্যবান, খুবই আশীর্বাদধন্য। আশা করি আরও বেশ কিছুদিন এভাবেই খেলতে পারব। একদিন আমারও অবসরের সময় আসবে। সেটা কঠিন। আমার সামনে এখনো কয়েকটা বছর সময় আছে। সময় বয়ে যায়। আমি ফুটবল ও আমার পরিবারকে উপভোগ করে যাব।’
ভোটে দ্বিতীয় হয়েছেন লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক। অনুষ্ঠান নেদারল্যান্ডস তারকা বলেছেন, ‘এটি বেশ আশ্চর্যজনক ছিল। তার মতো (মেসি) এমন কয়েকজন খেলোয়াড় রয়েছেন যারা দুর্দান্ত। এমন খেলোয়াড়রা চারপাশে থাকার পরও আমি লিভারপুল এবং হল্যান্ডের হয়ে যা অর্জন করেছি তা নিয়ে গর্বিত।’
মেসি অ্যাওয়ার্ড জয়ের পর ডেভিড বেকহ্যাম ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘অভিনন্দন আমার বন্ধু লিওনেল মেসি।’ ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা রোনাল্ডো লিখেছেন, ‘অভিনন্দন মেসি’। তাদের পথে হেঁটেই অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানোও।
মেসিকে অভিনন্দন জানান গতবারের জয়ী লুকা মদ্রিচ। অনুষ্ঠানে বার্সা তারকার হাতে ট্রফিও তুলে দেন ক্রোয়েশিয়া অধিনায়ক। পরে টুইটারে রিয়াল মিডফিল্ডার লেখেন, ‘খেলাধুলা এবং ফুটবলে কেবল জয়ী শেষ কথা নয়, সেখানে আপনার সতীর্থ এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়ও রয়েছে।’
মেসির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে মদ্রিচ বলেছেন, ‘অভিনন্দন, তোমারই এটি প্রাপ্য। মেসি অসামান্য, সর্বকালের অন্যতম সেরা এবং তিনি যা করেছেন তার জন্য তাকে অভিনন্দন জানাই।’
আগেরবারের বিজয়ী হিসেবে মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেয়ার ব্যাপারে মদ্রিচ বলেন, ‘এটি একটি দুর্দান্ত ঐতিহ্য হতে পারে যে, ট্রফিটির সর্বশেষ বিজয়ী পরবর্তী বিজয়ীর হাতে তুলে দেয়। আমি এখানে আছি কারণ ফুটবল শ্রদ্ধার বিষয়। এখানে এসেছি তাকে অভিনন্দন জানাতে এবং পুরস্কার তুলে দেয়ার জন্য।’
ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা গ্যারি লিনেকার বলেছেন, ‘মেসি তার ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জিতল। এই বছরটা তার জন্য আবার সত্যিই অসাধারণ। তিনি হলেন বিশ্ব ফুটবলের সেরা খেলোয়াড় এবং মেরুদণ্ড। তিনি এমনভাবে খেলাটা খেলেন যা সবার কাছেই আনন্দময় এবং বোধগম্য। পুরষ্কারটি তার জন্যই পুরোপুরি প্রশংসনীয়।’
মেসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গ্রিজম্যানসহ তার বার্সা সতীর্থরা। অভিনন্দন পেয়েছেন জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছ থেকেও।
বার্সেলোনা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউ মেসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সভাপতির চেয়ে আবার বেশ এগিয়ে বার্সেলোনার বোর্ড সদস্য জাভিয়ের বোর্দাস। তিনি মনে করেন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়ে মেসির নামের পাশে অন্তত ১০টা ব্যালন ডি’অর বেশি থাকা উচিত ছিল।
দুজনের মধ্যকার পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে বোর্দাস বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানোর চেয়ে মেসির নামের পাশে দশটা ব্যালন ডি’অর বেশি থাকা উচিত ছিল। তবে এখন অন্তত একটা বেশি থাকবে।’
প্যারিসের মঞ্চে উঠে ব্যালন ডি’অর হাতে ক্যামেরায় পোজ দেন বর্তমান ফুটবলের রাজপুত্র। চলতি মৌসুমেও অপ্রতিরোধ্য পারফরম্যান্স করে চলেছেন মেসি। এ বছর এখন পর্যন্ত ৪৪ ম্যাচে ৪১ গোল হয়ে গেছে মেসির।
অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার আগেদিন, অর্থাৎ রোববারও ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বার্সেলোনার এমএসজিকে আটকে রেখেছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। কিন্তু মেসির এক দুর্দান্ত শটে রক্ষা পায় বার্সা। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে জোরাল ভলিতে গোল করেন এলএম টেন। ওই ম্যাচের পর আবারও মেসি ভক্তরা সোচ্চার সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারা পোস্ট করতে শুরু করেন, মেসির ব্যালন ডি’অর পাওয়া নিশ্চিত। শেষপর্যন্ত সেটাই হয়েছে।








