বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের লড়াই সমাপ্ত। এবার শেষ ষোলোর লড়াই শুরু। আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর রক্ত হিম করা লড়াই। শেষ ৩২ দলের লড়াই দেখে মনে হয়েছে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অফুরন্ত রোমাঞ্চ জমে আছে। বিশেষ করে অচেনা অজানা কেপ ভার্দে যেভাবে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল আর্জেন্টিনাকে নাড়া দিয়েছে তাতে করে ষোলোতে জমজমাট লড়াইয়ের ষোলোকলা পূর্ণ হবে।
এমন কথার সাথে মোটেও দ্বিমত করছেন না আশির দশকের তারকা ফুটবলার খোরশেদ আলম বাবুল। অনেক অনেকদিন ধরে তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং সেই সময়ের আবাহনী ক্রীড়া চক্রের হয়ে খেলেন। জাতীয় দলের হয়েও খেলেন দীর্ঘদিন। মধ্যমাঠে সবচেয়ে ঠাণ্ডা মেজাজের খেলোয়াড় হিসেবে তার সুখ্যাতি ছিল দিগন্ত বিস্তৃত। তিনি দীর্ঘ ফুটবল জীবনের সমাপ্তি টানেন ‘৯০ সালে। তবে এখনও বিভিন্নভাবে নিজেকে ফুটবলের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
খোরশেদ আলম বাবুল বললেন, ‘আজ কেপ ভার্দে আর আর্জেন্টিনার খেলা-এ এক তুখোড় লড়াই। যে লড়াইয়ের সমাপ্তির জন্য শেষ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেস সেকেন্ড পর্যন্ত পুরো ম্যাচটাই ছিল অনিশ্চিত। তবে এই ম্যাচ সবাই এনজয় করেছে। এটাই ফুটবল। আজ বিশ্বের কোটি কোটি আর্জেন্টিনা অুনরাগীদের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সবশেষে ফুটবলের জয় হয়েছে। আর কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের অভিষেকেই যা করে গেল সেটা রীতিমতো ইতিহাস। গোলকিপার আজকেও দুর্দান্ত খেলেছে। প্রতিটি সেকেন্ড আজ কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিশাল চাপের মুখে রাখতে পেরেছিল। এই ছোট্ট দেশটির লড়াইয়ের মাঝে মুগ্ধতা ছিল অন্যরকম।’
খোরশেদ আলম বাবুল আরও বললেন, ‘আজকেও গোল করে মেসি নিজের স্বকীয়তা প্রমাণ করেছে। মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা কী খেলতো জানি না। তবে এই দলের সব শক্তির উৎস মেসি। মেসির খেলাও ছিল উপভোগ্য। তবে হ্যাঁ, প্রতি বিশ্বকাপের এরকম কিছু ম্যাচ হয়। আজ বোধ হয় একটা হয়ে গেল। ষোলোর লড়াইয়েও আরও এরকম কিছু ঘটবে।’
কেপ ভার্দে সত্যিই আজ ছিল আরও দুর্দান্ত, আরও লড়াকু। আজকে জিতেও যেতে পারতো। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি সত্য, কিন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারা সাহসী এক নাম লিখে গেল। আজ মিশর-অস্ট্রেলিয়া, কলাম্বিয়া-ঘানার চেয়ে আর্জেন্টিনা এবং কেপ ভার্দের ম্যাচ ছিল অবিশ্বাস্য রুদ্ধশ্বাস ভরা। আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারাতে পারলেও ১১০তম মিনিটে রক্ষণের খেলোয়াড় রোমেরোর হেডে আসে জয়সূচক গোল। ৭ জুলাই আর্জেন্টিনাকে মিশরের মোকাবিলা করতে হবে।
আজকের ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোল করেন লিওনেল মেসিই (২৯ মিনিট)। বিরতির পর ১৫ নম্বর জার্সিধারী দুয়ার্তে (৫৯ মিনিট) কেপ ভার্দের হয়ে সমতা ফেরান। এরপর নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (৯২ মিনিট) গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। কিন্তু কেপ ভার্দের সিডনি কাবরাল (১০৩ মিনিট) বাম পাশ থেকে কোনাকুনি শটে এক অসাধারণ গোল করেন। এরপর ১১০তম মিনিটে কর্নার থেকে রোমেরোর হেড প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে।
ম্যাচটি আসলে আর্জেন্টিনার জন্য প্রত্যাশার চেয়েও অনেকবেশি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। কেপ ভার্দের মতো নতুন একটি তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১২০ মিনিট পর্যন্ত লড়তে হবে এমনটা কোচ স্কালোনির দল কল্পনাও করেনি। তবে বড় দল বলে কথা। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জয় তুলে ঘরে ফিরতে পেরেছে। আর হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে বিশ্বের কোটি কোটি আর্জেন্টিনা ভক্ত।
খোরশেদ আলম বাবুলের মতে, এখানেই শেষ নয়। আর্জেন্টিনার জন্য সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি কঠিন পরীক্ষা। মিশরকে কোনভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সেখানেও লড়তে হবে। খোরশেদ আলম বাবুল বরাবরই ব্রাজিলের ভক্ত। পেলের অনুরাগী ছিলেন আজীবন। তবে এখন ব্রাজিলের কেউ নয়, মেসিই তার বেশি পছন্দ। ব্রাজিল এবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না বলে খোরশেদ আলম বাবুলের পর্যবেক্ষণ। কোয়ার্টার বা সেমিফাইনাল থেকে ব্রাজিলের বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে। তবে এবারের বিশ্বকাপে তিনি খুবই শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন ফ্রান্সকে। কিন্ত ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হবে বা আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হবে এমনটি বলতে তিনি নারাজ। তার মতে, শুধু শক্তিশালী হলেই কেউ চ্যাম্পিয়ন হবে তাও নয়।
চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে আরও অনেককিছু লাগে। ভাগ্যও লাগে। খারশেদ আলম বাবুল বললেন, ‘আজ থেকে প্রতিটি ম্যাচ হবে লড়াইপূর্ণ। কেউ কাউকে ছাড়বে না। আর অপ্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটতে থাকবে। এটাই ফুটবল এটাই বাস্তবতা। ফুটবলের রূপ-রস এখানেই নিহিত।’








