রোববারের গণভোটের রায় স্বাধীনতার পক্ষে পাওয়া গেছে। রায় দিয়েছেন শতকরা ৯০ শতাংশ কাতালোনিয়াবাসী। স্পেন থেকে স্বাধীনতা পেয়ে গেলে সামনে লা লিগায় খেলার যোগ্যতা হারাবে বার্সেলোনা। তখন কোন লিগে খেলবে মেসিরা? গণমাধ্যমের গুঞ্জনে অনেকগুলো লিগের নামই উঠে এসেছে। তবে ভাবনাটা আর গুঞ্জনের পর্যায়ে নেই। বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউ সরাসরিই জানিয়ে দিলেন, বিকল্প লিগের ভাবনার পথে হাঁটতে যাচ্ছে ন্যু ক্যাম্পের দলটি।
বার্সা ২৪ বারের লা লিগা জয়ী ক্লাব। স্বাধীনতার পক্ষে রায় আসার পর এই হিসাবটি এখন গৌণ। লা লিগা কর্তৃপক্ষও বার্সাকে হুমকি দিয়ে রেখেছে অন্য পথ খুঁজে নেওয়ার। কাতালোনিয়া এবং ক্লাবের এমন সংকটময় মুহূর্তে ক্লাব পরিচালকদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বার্তেমেউ। ক্লাবের এক জরুরি সভায় লা লিগার বিকল্প খুঁজে বের করার জন্য পরিচালকদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববারের গণভোটকে ইতিমধ্যেই অবৈধ ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। স্বাধীনতার দাবিতে ক্রমেই উত্তাল হওয়া গণভোটের দিনে পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন ৮০০’র বেশি কাতালানবাসী। সংকটময় সময়ে লাস পালমাসের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচটি স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিল বার্সা কর্তৃপক্ষ। লা লিগা কর্তৃপক্ষ তাতে কান দেয়নি। উল্টো নিজ মাঠে দর্শকহীন ম্যাচে খেলতে হয়েছে মেসিদের। না খেললে ৬ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে বলে বার্সাকে হুমকি দেয় কর্তৃপক্ষ।
পালমাসের বিপক্ষে ৩-০তে জয় পেলেও ক্ষোভ জমা করে রেখেছিলেন বার্সা কর্তারা। ক্লাবের জরুরি সভায় সেই ক্ষোভের উদগিরণ হয়েছে। আলোচনা হয়েছে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়েও।
‘আমরা যদি স্বাধীনতা পেয়েই যাই তাহলে ক্লাব এবং সদস্যদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কোথায় খেলব।’
ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বার্সা পরিচালকদের অনুরোধ জানিয়েছেন বার্তেমেউ, ‘আমরা এখন উত্তাল এবং জটিল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সকলকে সম্মান জানিয়ে বলছি, ভবিষ্যতে যাই ঘটুক না কেন, ঠাণ্ডা মাথায় এবং বিবেচনা সাপেক্ষে সকল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করব।’
বার্তেমেউর বক্তব্য অনেকটা কাতালান ক্রীড়া মন্ত্রী জেরার্ড ফিগোয়েরাসের বক্তব্যের প্রতিচ্ছবিই। বার্সার পাশাপাশি এস্পানিয়ল, জিরোনাকে নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ, লিগ ওয়ান কিংবা সিরি আতে নিবন্ধন করানোর কথা বলেছিলেন ফিগোয়েরাস, ‘যদি দেশ স্বাধীন হয়ে যায়, কাতালান দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোথায় খেলবে তারা। চাইলে তারা স্প্যানিশ লিগেও থাকতে পারে কিংবা চাইলে ইংল্যান্ড, ইতালি অথবা ফ্রান্সে গিয়েও খেলতে পারে।’








