লড়াইয়ে নামার আগে লিওনেল মেসির খেলা দেখতে ন্যু ক্যাম্পে এসেছিলেন ওলে গানার সলশেয়ার। দর্শক সারিতে বসে দেখেছেন মাত্র ১ মিনিটের ঝড়ে কীভাবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ডুবিয়েছেন মেসি-সুয়ারেজ জুটি! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ পরে একপ্রকার আত্মসমর্পণের সুরেই বলেছেন, মেসি নামক তাণ্ডবকে আটকানোর কৌশল জানা নেই তার!
যে ম্যাচ নিয়ে আতঙ্কে সলশেয়ার, সেটি এখন কড়া নাড়ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুয়ারে। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রেড ডেভিলদের মাঠে খেলতে নামবে মেসির বার্সেলোনা। ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
আসলে মেসিকে ভয় না পেয়ে যে উপায়ও নেই ম্যানইউর। বার্সার বিপক্ষে ১০ ম্যাচ খেলে ৩ জয়ের বিপক্ষে ৪ ম্যাচ হেরেছে তারা, ড্র করেছে ৪ বার। যে চার ম্যাচ হেরেছে তারমধ্যে দুটি আবার বেশ গায়ে জ্বালা দেয় ইংলিশ জায়ান্টদের। ওই দুই ম্যাচই ছিল যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। দুই ফাইনালেই এক মেসিকে আটকাতে গিয়ে বধ হয়েছিল অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল।
গুরু যা করতে পারেননি, শিষ্য হয়ে সেটা করার সাহসও করছেন না সলশেয়ার। তার উপর কিছুদিন আগেই বার্সার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মেসিকে আটকানো একপ্রকার অসম্ভব। সাবেক শিষ্য নিয়ে যখন গুরুর এই মত সেটা খণ্ডানোর সাহসও করছেন না ম্যানইউ কোচ, ‘পেপই আমার চেয়ে ভালো জানে। কারণ ও মেসির সঙ্গে ছিল।’
মেসিকে না হয় আটকানো গেল না, সেটির চিন্তায় আবার শিষ্যদের কাবুও হতে মানা করে দিয়েছেন সলশেয়ার। তার পরামর্শ যতটা সম্ভব ম্যাচ উপভোগ করার। পুরোটা সময় মনোযোগ ধরে রাখা। পিএসজির বিপক্ষে প্রায় অসম্ভব এক ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর সেই শিক্ষাকে বার্সা ম্যাচে কাজে লাগাতে বলছেন পল পগবাদের কোচ।
‘বার্সার ম্যাচটা দেখে একটা জিনিস বুঝলাম। ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। এক মুহূর্তের জন্য এদিক-সেদিক হলে কিন্তু গোল খেতে হবে।’
মেসিকে কীভাবে আটকানো যায় এনিয়ে যখন দুশ্চিন্তায় সলশেয়ার, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজার এক সমাধান দিয়েছেন ম্যানইউ সমর্থকরা। কী দরকার এত কষ্ট করে? এরচেয়ে এয়ারপোর্টে মেসির কাগজপত্র আটকে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়!
শেষ পর্যন্ত তা অবশ্য হয়নি! মেসি ঠিকই পৌঁছে গেছেন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। যে মাঠ হতে অতীতে কখনোই জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি বার্সা। তবে এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে এমনও হয়ত নয়। সেখানে নিজ মাঠ, নিজ দর্শকদের সামনে ১৯৯৯ সালের কাহিনীটা ফেরত আনতে পারলেই চলবে ম্যানইউর। সেবার বার্সাকে ২-৬ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় করে দিয়েছিল তারা। জিতেছিল শিরোপাও! সেই শিরোপার অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন বর্তমান কোচ সলশেয়ার!









