একদিকে পি সারা ওভাল অন্য দিকে অ্যাডিলেড ওভাল ক্রিকেট বিশ্বে তখন সাঙ্গাকার-মাইকেল ক্লার্কের মতো মহারথীদের বিদায়ে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময়ে অনেকটা অন্তরালেই ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অজি ওপেনার ক্রিস রজার্স।
ক্রিকেটের এই দুই মহারথীর বিদায়ে ঢাকা পড়ে গেলো ত্রিশ পেরিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা বাহাতি ওপেনারের কীর্তি। ৬ আগস্ট অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে। প্রথম ইনিংসের তৃতীয় বলে স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলয়নে পথ ধরতেই অনন্য এক অর্জন নিমেষেই সরে গেলো রজার্সের সামনে থেকে।
এই ম্যাচে শূন্য রানে আউট না হলে ২০ টেস্টের বেশি খেলা প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে কোনো শূন্য রান ছাড়াই ক্যারিয়ার শেষ করতেন তিনি।
পড়ন্ত বেলায় ক্যারিয়ার শুরু করলেও প্রাপ্তিটা মোটেও কম নয় অজি এ ওপেনারের। ওভাল টেস্ট খেলেই অবসরে যাওয়া ওপেনার পেরিয়েছেন ২ হাজার রানের মাইলফলক, ক্যারিয়ারে তার সংগ্রহ এখন ২৫ টেস্ট খেলে ২০১৫ রান।
৩০ পেরিয়ে অভিষেকের পর ওপেনার হিসেবে সবচেয়ে বেশি রান ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানেরই। ১২৩১ রান নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্রায়ান লাকহার্স্ট আছেন এরপরই।
তবে এই বয়সে অভিষেক হওয়া সব ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রানের দিক দিয়ে ষষ্ঠ রজার্স। রজার্সের সাবেক সতীর্থ মাইক হাসি ৭৯ ম্যাচের ১৩৭ ইনিংসে করেছেন ৬২৩৫ রান।
দুইয়েও রয়েছেন রজার্স সতীর্থ-ব্র্যাড হাডিন, তার সংগ্রহ ৩২৬৬ রান। তিন থেকে পাঁচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিডলি জ্যাকবস (২৫৭৭), ইংল্যান্ডের বাসিল ডি’অলিভিয়েরা (২৪৮৪) ও ভারতের বিজয় হাজারে ২১৯২।
টেস্টে টানা সাতটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার কীর্তিও এই অসি ব্যাটসম্যানের। রজার্সের আগে আরো চারজন এই কীর্তি গড়েছেন। তারা হলেন- ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার এভারটন উইকস, জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিবনারায়ণ চন্দরপল ও শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা।
তবে পাঁচজনের মধ্যে ওপেনার ব্যাটসম্যান হিসেবে একমাত্র রজার্সই এই কীর্তি গড়লেন। এমনকি রজার্স একমাত্র ব্যাটসম্যান, যিনি টানা সাতটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের একটিতেও সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারেননি! দুবার ৯৫ রানে থেমেছে তার ইনিংস।






