কলকাতার ইডেন গার্ডেনে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৭৫ রানে হারলেও ইনিংসের শুরুর গল্পটা ছিল ভিন্ন রকম। মুস্তাফিজের দুর্বোধ্য বোলিং ধাঁধার কোন উত্তরই দিতে পারেনি কিউই ব্যাটসম্যানরা
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে মুস্তাফিজ কাটারে কুপোকাত হয়েছে কিউইরা। শেষ পর্যন্ত তারা সংগ্রহ করে আট উইকেটে ১৪৫ রান। টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম কোনো বাংলাদেশীর পাঁচ উইকেট শিকার।
কিউই ওপেনার গাপটিলকে বিশ্রামে রেখে হেনরি নিকোলের সঙ্গে ইনিংস শুরু করে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। হাত খুলেই খেলছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান।
কিন্তু বিস্ময়বালক মুস্তাফিজ বোলিংয়ে এসেই তাদের টুটি চেপে ধরেন। প্রথমে দারুণ এক স্লোয়ার কাটারে মুস্তাফিজ বোল্ড করেন হেনরি নিকোলকে।
ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে থাকা উইলিয়ামসনকেও দলীয় ৫৭ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরত পাঠায় মুস্তাফিজ। এবারেও মুস্তাফিজের স্লোয়ারে পরাস্ত উইলিয়ামসন।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর কলিন মুনরো ৩৩ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে রানের চাকা সচল রাখে কিউইরা। মুনরোকে ১৫তম ওভারে সরাসির বোল্ড করেন আল আমিন। তবে এই মুনরোকে শুরুকেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব, প্ল্যাম এলবিডব্লিউয়ের আবদনে সাড়া দেয়নি সাউথ আফ্রিকান আম্পায়ার জোহান ক্লোয়েট।
টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৫ ওভারে ১০০ রান অতিক্রম করে কিউইরা। ১৬তম ওভারেই টাইগার অধিনায়ক মাশরাফিকে পড়তে না পেরে স্লোয়ার বলে বোল্ড হন কোরি অ্যান্ডারসন। ওই ওভারেই টেলরের সহজ ক্যাচ ডিপ স্কয়ার লেগে হাত ছাড়া করেন আল আমিন।
১৮ তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই আবার সাফল্য পান কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। আগের ব্যাটসম্যানদের মতো গ্রান্ট ইলিয়ট ও পড়তে পারলেন না মুস্তাফিজকে। তার স্লোয়ার অফ কাটারে মিড অনে চমৎকার এক ক্যাচ ধরেন শুভাগত হোম।
পরেই ওভারেই আল আমিন ফিরিয়ে দেন কিউই মিডল অর্ডার স্তম্ভ রস টেলরকে। ফুলটস বলটাকে আগেভাগে মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে মিথুনের দুরন্ত এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরে টেলর।
শেষ ওভারে মুস্তাফিজ চতুর্থ ও পঞ্চম বলে বোল্ড করেন সান্টনার ও নাথান ম্যাককুলামকে। বাংলাদেশের বোলারদের অসামন্য নৈপূণ্যে শেষ পর্যন্ত কিউইরা করে ১৪৫ রান।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন কেন উইলয়ামসন। মুস্তাফিজ চার ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে নেন পাঁচ উইকেট। এটাই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা বোলিং ফিগার।







