চট্টগ্রাম থেকে: সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বোলারদের চোখের জল নাকের জল এক করে ছেড়েছেন মুমিনুল হক। বাঁহাতি তারকা ১৭৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করায় মুখ বেজার করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে সফরকারীদের। দ্বিতীয় দিনে মুমিনুল লঙ্কান বোলারদের আরও কতটা ভোগান সেটিই দেখার। তার আগেই অবশ্য ‘কমপ্লিট’ ইনিংসের সার্টিফিকেট পেয়ে গেছেন। সতীর্থকে বাহবা দেয়ার পাশাপাশি তামিম জানিয়ে গেলেন, মুমিনুলের যা কিছু প্রমাণ করার ছিল, করেও ফেলেছে।
টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল পৌনে দুইশর ইনিংসটা দেখে এতটাই মুগ্ধ যে ভুলেই গিয়েছিলেন আরও অনেকটা দূর যাওয়া বাকি মুমিনুলের। দ্রুতই অবশ্য শুধরে নিয়েছেন নিজেকে, ‘আমার কাছে মনে হয় মুমিনুলের খেলাটা কমপ্লিট ছিল। যদিও নটআউট; আশা করি আরও অনেকদূর যাবে। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তার কিছু প্রমাণ করার ছিল এবং সে সেটা দারুণভাবে করেছে।’
‘প্রথম থেকেই সে আক্রমণাত্মক ছিল এবং সেভাবেই পুরো ইনিংস খেলে গেছে। যখন একশো করে তখন তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১০৩! এই উইকেটে যে জিনিসটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল; উইকেট নষ্ট না করা, সে সেটা করেছে। ওর উইকেটটা নষ্ট করেনি।’ যোগ করেন তামিম।

‘আমরা জানতাম এখানে ব্যাটিং করা সহজ হবে, বিশেষ করে প্রথম দিনে। অনেক সময় দেখা যায় ব্যাটিং উইকেটে বেশি উত্তেজিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে অনেকে আউট হয়ে যায়। ও সেটা করেনি। জানতো ওর উইকেটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটা বড় জুটি গড়া খুব দরকার ছিল। মুশফিক ও মুমিনুল খুব ইতিবাচক থেকে সেটা করেছে।’ সতীর্থের ইনিংসের গুরুত্ব এভাবেই তুলে ধরলেন তামিম।
জহুর আহমেদে আগেও তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন মুমিনুল। কখনও খুব উচ্ছ্বসিত উদযাপন দেখা যায়নি। অতি-উচ্ছ্বাস তার স্বভাবেও নেই। বড় বড় কীর্তি গড়েও থাকেন নির্লিপ্ত। সেই মুমিনুল স্বভাববিরুদ্ধ কাজটাই করলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে। উদযাপনটা ছিল চোখে পড়ার মতই খ্যাপাটে। তাতে একটুও অবাক হননি তামিম।
‘মুমিনুলের কিছু প্রমাণ করার ছিল এবং সে সেটা দারুণভাবে করেছে। দেখে আমারও ভাল লাগছে। আমি জানি কেন সে এটা (খ্যাপাটে উদযাপন) করেছে।’








