চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

মুক্ত সাংবাদিকে মুক্ত গণমাধ্যম

শরিফুল হাসান শরিফুল হাসান
১০:০৮ অপরাহ্ণ ০৩, মে ২০১৮
মতামত
A A

আজ ৩ মে। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে নানা জায়গায় আজ সেমিনার হচ্ছে।  গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে, হবে। তবে আমার মনে হয় সাংবাদিকরা যদি সব চাপ থেকে মুক্ত থাকতে না পারেন তাহলে মুক্ত গণমাধ্যম আশা করা কঠিন। আর সেজন্যই বাংলাদেশের সাংবা‌দিকরা কেমন আছে, কেমন থাকে সেই আলোচনা জরুরী। আফসোস, আমাদের গণমাধ্যমে নানা শ্রেণী পেশার মানুষের জীবন সংগ্রামের খবর প্রকা‌শিত বা প্রচারিত হলেও সাংবাদিকরা কেমন আছেন, কেমন থাকেন, তাদের সংকটগুলো কী কী, সমাধানই বা কী সেসব নিয়ে আলোচনা হয় না। কয়েকটি বিষয়ে তাই আলোচনা করতে চাই।  আমি মনে করি মুক্ত গণমাধ্যমের চেয়েও সাংবাদিকের নানা কিছু থেকে মুক্ত রাখা জরুরী।

শুরুতেই কথা বলতে চাই সাংবাদিকদের জীবন-জীবিকা নিয়ে। সবাই জানেন, সাংবাদিকতা পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগুলোর একটি। এই তো দুদিন আগে আফগানিস্তানে হামলায় ১০ জন সাংবাদিক প্রাণ হারালেন। বাংলাদেশেও নানা সময় অনেক সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হয়েছে। আর হামলা, মামলা তো নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু এসব ঝুঁকির চেয়েও বাংলাদেশের অধিকাংশ সাংবাদিকদের যে ঝুঁকিতে থাকতে হয় তার নাম বেতন। নির্ধারিত তারিখে বেতন হবে তো? ভবিষ্যতটা চলবে তো?

টানা ১৫ বছর আমি সাংবাদিকতা করেছি। এখনো আমার সবচেয়ে বেশি বন্ধুবান্ধব সাংবাদিক। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, প্রথম আলো, ডেই‌লি স্টারসহ হাতে গোনা পাঁচ ছয়টা বাদে বাংলাদে‌শের অ‌ধিকাংশ প‌ত্রিকায় নির্ধা‌রিত তা‌রিখে বেতন হয় না। প্রথম আলোতে টানা একযুগ আমি ছিলাম। কখনো বেতন-বোনাস নিয়ে ভাবতে হয়নি। কিন্তু প্রথম আলোর আগে এক বছর আমি দেশের প্রথম সারির একটা বার্তাসংস্থায় শুরু থেকে ছিলাম। সেখানে যে বেতন পেতাম ভাবলে আজ হাসি পায়।

এর আগে আমি বাংলাবাজার পত্রিকায় ছিলাম এক বছর। মাসের কোন তারিখে যে সেখানে বেতন হবে, আদৌ হবে কী না তা নিয়ে সবাইকে দেখতাম মাসের শেষে দুশ্চিন্তায় থাকতে। আবার কোনো কোনো মাসে বেতন হতো না। একবার টানা দুই মাস বেতন হচ্ছিল না। আমি সারাক্ষণ কাজ নিয়ে থাকতাম বলে সেই সময়ের সম্পাদক আমাকে একটু বেশি পছন্দ করতেন। আমাকেসহ আরেকজনকে তিনি বলেছিলেন, তোমাদের দুজনের বেতন দিয়ে দিচ্ছি। তোমরা অন্য কোথাও যেও না। আমি সেদিন বলেছিলাম, সবাইকে যেদিন দেবেন আমাকেও সেদিন দিয়েন।

আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। হলে থাকি। বেতন না হলেও খুব বেশি সমস্যা আমার ছিলো না। কিন্তু অনেকেই ছিলেন যাদের বেতনের সাথে বাসা ভাড়া, সন্তানের স্কুলের টাকাসহ অনেক কিছু নির্ভর করে। তাদেরকে সবসময় দেখতাম দুশ্চিন্তায় থাকতেন।

Reneta

কথা হলো, ১৩ বছর আগে আমি আমার সহকর্মীদের মধ্যে যে দুশ্চিন্তা দেখেছিলাম আজ এতো এতো টিভি, পত্রিকা, অনলাইন হওয়ার পরেও কি সেই দুশ্চিন্তা গেছে? আমার সাংবাদিক বন্ধুরা কী বলেন? আমি জানি বাংলাদেশের অ‌নেক গণমাধ্যম আছে যেখানে এখনো বেতন বকেয়া বা অ‌নিয়‌মিত থাকে। ফলে যারা সৎভা‌বে জীবনযাপন করেন বা করতে চান, বেতনের টাকাতেই যাদের সংসার চলে তাদের ভয়াবহ সংকটে থাকতে হয়।

১৩ বছরে অবস্থা কি খুব বদলেছে? বলতে বাধ্য হচ্ছি অ‌নেক অফিসের পিয়ন যে বেতন পায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে আসা ছেলে বা মেয়েটিকে তার চেয়ে কম বেতনে যোগদান করতে বলে অ‌নেক টে‌লি‌ভিশন বা অনলাইন। আমি জানি এই দেশে এখনো বহু টেলিভিশন, পত্রিকা বা অনলাইন আছে যেখানে রিপোর্টার বা সহ সম্পাদকের শুরুর বেতন হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, কিংবা এর চেয়েও কম। একবার ভাবুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা একটা ছেলে বা মেয়ের প্রারম্ভিক বেতন ১০ হাজার টাকা। হল ছেড়ে বাসা নেওয়া, নিজের খরচ চালানো, এরপর পরিবার। কীভাবে এই কাজগুলো করবে এই টাকায়? জটিল এই হিসাব নিকেশের কথা কেউ ভাবেন না।

শুরুর এই বেতন বেশ কয়েক বছর ধরে চলতে থাকে। ওই তরুণ সাংবাদিক তখন অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান কিংবা হতাশায় ডুবে থাকেন।

আবারও ফিরে যাচ্ছি অতীতে। ২০০৩-০৪-০৫ এমনকি ২০০৬ সালের কথাও বলতে পারি। ওই সময়ে আমরা অনেক তরুণ সাংবাদিকতায় আসি। আমি বা আমার অনেক বন্ধুবান্ধব কখনো বিসিএস বা সরকারি চাকরির কথা ভাবিনি। আমাদের কাছে মনে হতো সাংবাদিকতাই ধ্যান জ্ঞান। কিন্তু আজকাল দ্বিতীয় বা তৃতীয় বর্ষে থাকা ছেলেমেয়েরাও বিসিএসের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে, এমনকি সাংবাদিকতা বিভাগের ছেলেমেয়েরাও। কারণ সবাই জানে সাংবাদিকতায় শুরুর যে বেতন তা দিয়ে জীবন চালানো কঠিন। এই যদি হয় পরিস্থিতি তাহলে মেধাবীরা সাংবাদিকতায় আসেবে কেন? থাকবেই বা কেন?

কেউ কেউ ভাবতে পারেন শুরুতে না হয় বেতন কম এরপর নিশ্চয়ই বাড়ে? হ্যা প্রতিষ্ঠান বদলে ফেললে, কিংবা কঠোর পরিশ্রম করলে নিজের প্রতিষ্ঠানেও হয়তো বেতন বাড়ে। কিন্তু সেটি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তবে কয়েক বছর হয়ে গেলে আবার অন্য সমস্যা শুরু হয়।

অন্য সব পেশায় অ‌ভিজ্ঞতা বাড়ার সা‌থে সা‌থে সু‌যোগ সু‌বিধা বাড়ে। কিন্তু সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে যতোই বয়স ও অ‌ভিজ্ঞতা বাড়ে তার যাওয়ার জায়গা কমতে থা‌কে। অ‌নি‌শ্চিত হয়ে পড়ে তার ভ‌বিষ্যত। কারণ অভিজ্ঞতা হলে তাকে একটু বেশি বেতন দিতে হবে। বেশিরভাগ গণমাধ্যম যেটা করে বেশি বেতনে একজন অভিজ্ঞকে রাখার বদলে স্বল্পবেতনে একাধিক নতুন ছেলেমেয়ে নেয়। কারণ কম বেতন দিয়ে বেশি কাজ করানো যায়।

কথা হলো এই যে বেতন নিয়ে এতো সমস্যা সেটা দেখার কি কেউ নেই? আছে। আমাদের দেশের পত্রিকার সাংবাদিকদের বেতন কেমন হবে সেটা তথ্য মন্ত্রণালয় গঠিত ওয়েজবোর্ড দ্বারা নির্ধারিত হয়। তবে ওয়েজবোর্ডে নূন্যতম যে বেতন দেওয়ার প্রস্তাব করা আছে অধিকাংশ গণমাধ্যম সেটাও দেয় না। এ বিষয়ে সরকারের কোন নজরদারিও নেই।

আবার পত্রিকার সাংবাদিকদের বেতন দেওয়ার জন্য ওয়েজবোর্ড থাকলেও টেলিভিশনের সাংবাদিকদের জন্য কোন নিয়ম কানুন নেই। সেখানে একেক প্রতিষ্ঠানে একেক নিয়ম।

এ তো গেল শুরুর বা একটু অভিজ্ঞদের কথা। প্রবীণ সাংবাদিকদের কী অবস্থা? সেখানেও সুখের কোন খবর নেই।  আমাদের দেশে সাধারণভাবে সাংবাদিকদের অবসরের কোন বয়স নেই। ফলে প্রবীণ সাংবা‌দিকরা যেসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে আছেন সেগু‌লো কখনো শূন্য হয় না। ফলে অপেক্ষাকৃত একজন তরুণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যাওয়া কঠিন। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে একজন প্রবীণ ৩০-৪০ বছর সাংবাদিকতা করার পরেও অবসরে যেতে চান না কেন? কেন আমৃত্যু তাকে কাজ করতে হয়? কারণটাও অনিশ্চয়তা।

একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী অবসরের পরে বড় অংকের আর্থিক সুবিধা পান। এমনকি আমি প্রথম আলোতে একযুগ থাকার পর গ্রাচুইটির টাকাসহ নানা সুযোগ সুবিধা পেয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে কর্মীদের চলে যাওয়ার সময় কোন সুবিধা দেন না। ফলে চাকরি চলে যাওয়া বা অবসরে চলে যাওয়া মানে তার প্রাপ্তি শূন্য। অথচ যদি এমন হতো সাংবাদিকরা অবসরে গেলে বাকি জীবনটা চলার জন্য একটা ভালো অংকের অর্থ পাবেন তাহলে তিনি বৃদ্ধ বয়সে অন্তত নিশ্চিত থাকতে পারতেন।

সাংবাদিকদের যে এতো সংকট সেগুলো কখনো কোন গণমাধ্যমে আসে না। বাংলাদেশের মোট কতজন সাংবাদিক তার বেতনের টাকা নিয়ে সন্তুষ্ট, কতজন সাংবাদিক নির্ধারিত সময়ে বেতন বোনাস পান সেসব নিয়ে কখনো কোন জরিপ বা অনুসন্ধানী নিউজ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। আফসোসের বিষয় হলো, যেই সাংবাদিকরা ঈদের আগে পোষাক কারখানার কর্মীদের বেতন বোনাস বকেয়া নিয়ে নিউজ করেন সেই সাংবাদিকদের অনেকেরই যে নিজের বেতন বোনাস ঠিকমতো হয় না সেই খবর কখনো গণমাধ্যমে আসে না। সাধারণ মানুষও জানে না। কেউ জানে না হুট করে প্রতিষ্ঠানটা বন্ধ হয়ে যাওয়া সাংবাদিকদের জীবন কেমন চলে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, কিছু সাংবাদিক বা সাংবাদিক নেতার তো অর্থ সম্পদ গাড়ি বাড়ি আছে। সেগুলো কোথা থেকে আসে। হ্যাঁ আছে। তবে তারা ব্যতিক্রম। কারণ বাংলাদেশের সাংবাদিকদের যে সুযোগ সুবিধা তাতে প্রথম সারির হাতে গোণা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিদের সৎ আয়ে গাড়ি বাড়ি করা তো দূরের কথা, এই শহরে জীবনযাপন করাই কঠিন।

এ কথা সত্যি সাংবাদিকতা যতটা না পেশা তার চেয়েও বেশি নেশা। একজন সাংবাদিকের ছুটিছাটা নেই বললেই চলে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধবদের বহু অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিতে পারেন না কাজের কারণে। ব্যক্তিগত এতো ছাড় দেওয়ার পরও তিনি যদি মনে করেন তিনি আর্থিকভাবে একটু ভালো থাকবেন সেটা কী অপরাধ? আমি সবসময় মনে করি সাংবাদিকতা, পুলিশ, বিচারকসহ এমন কিছু কিছু পেশা আছে যেই পেশার মানুষগুলোর সততা ও পেশাদারিত্ব খুব জরুরী। এই পেশাগুলোর মানুষগুলোর বেতন ও অন্যন্য সুযোগ সুবিধা এমন হওয়া উচিত যাতে তিনি সৎভাবে তার কাজেই যুক্ত থাকেন।

এতক্ষণ তো শুধু ঢাকার সাংবাদিকদের কথা বললাম। ঢাকার বাইরে মফস্বলের সাংবাদিকদের কী অবস্থা? রিপোর্ট করতে আমি নানা কাজে নানা জেলায় গিয়েছি। মফস্বলের অবস্থা ভয়াবহ। গুটিকয়েক বাদে বেশিরভাগই নিয়মিত বেতন পান না। অথচ বাংলাদেশের প্রায় সব গণমাধ্যমের জেলা প্রতিনিধি আছে।  কতো হলো, আপনি জেলা প্রতিনিধি রাখবেন কিন্তু তার প্রাপ্য বেতন দেবেন না কেন? শুনলে অবাক হবেন এমনও জেলা প্রতিনিধি আছে তিনি বলেছে, ঢাকা থেকে তাকে শুধু পরিচয়পত্র দিয়ে বলা হয়েছে করে খাও।  পারলে ঢাকায় যাও। এসব কারণে মফস্বলের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে।

এতক্ষণ তো সাংবাদিবকদের কথা বললাম। আমি মনে করি শুধু সাংবাদিকদের সৎ হলেই চলবে না, মালিক ও সম্পাদকদের সততাও খুব জরুরী। জরুরী তাদের পেশাদারিত্ব। আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় বাংলাদেশের মতো একটা ছোট্ট দেশে কেন হাজার হাজার পত্রিকা, কেন এত টেলিভশিন আর অগণিত অনলাইন? এসব প্রতিষ্ঠানের কতগুলো সত্যিকারের গণমাধ্যম আর কতগুলো কালো টাকা সাদা করার হাতিয়ার?

বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যম বা সাংবাদিকরা সরকার বা রাষ্ট্রের অনিয়ম অন্যায়রে বিরুদ্ধে চোখ রাখে। কিন্তু সেটা করতে হলে নিজের সততাও খুব জরুরী। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের টাকায় দেশ বিদেশ সফর করলে, প্লট জমি নেওয়ার ধান্দা থাকলে সবসময় ক্ষমতাসীনদের তোষামাদ করলে স্বাধীন সাংবাদিকতা করা কঠিন।

গণমাধ্যম বা সাংবাদিকতার নামে অনৈতিক চর্চা নিয়ে কথা বললে অনেকেই মন খারাপ করেন, ক্ষুব্ধ হন।  আমি মনে করি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই পেশার অনিয়ম নিয়েও কথা বলা উচিত। কারা সাংবাদিক হতে পারবেন, কী কী যোগ্যতা থাকলে সাংবাদিক হওয়া যাবে, কোন প্রতিষ্ঠান বেতন না দিলে কী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে, কোন সাংবাদিককেতার প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা না দিলে কী ব্যাবস্থা নেয়া হবে এসব বিষয় নিয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত সবার। কারণ সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা। আমি মনে করি, এই পেশার সম্মান টিকিয়ে রাখতে হলে পেশাদারিত্ব খুব জরুরী।

আমি বলছি না সাংবাদিকদের কোন দল থাকবে না। কোন না কোন দলের প্রতি তার মোহ থাকতেই পারে।  কিন্তু তিনি যখন সাংবাদিক তখন কিন্তু পেশাদারিত্বটা খুব জরুরী। কিন্তু আফসোস আমাদের সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সর্বত্র রাজনৈতিক বিভক্তি। আর সেই বিভিক্তর কারণে সাংবাদিকদের অধিকারের বিষয়গুলো একেবারেই চাপা থেকে যায়। চাপা থেকে যায় সাংবাদিকদের সংকটগুলোও।

এবার মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে ফিরি। ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের (আরএসএফ) প্রেস ফ্রিডম র‌্যাংকিং ২০১৮ তালিকা অনুযায়ী, গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে। আর বিশ্বে অবস্থান ১৪৬তম। বিশ্বের ১৮০টি দেশের গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশের মতো দেশে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় প্রভাশালীরা নানাভাবে সাংবাদিকতার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে, করবে। পেশাদারিত্ব থাকলেই সেগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব। আবার এই কথাও সত্যি যে মুক্তভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আমরা ক্রমেই অসিহষ্ণু হয়ে উঠছি। আমরা ভিন্নমত সহ্যই করতে পারি না। ৫৭ ধারার মতো কালো আইন আমাদের আছে এবং যখন তখন তার অপব্যবহার হয়। কিন্তু আমি মনে করি সত্যিকারের পেশাদার সাংবাদিক যতো বাড়বে, যতো বেশি মেধাবীরা আসবে ততোই এসব সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে।

আমি মনে করি, সাংবাদিকরা যদি পেশাদারিত্বের সাথে সব ধরনের চাপ থেকে, লোভ থেকে, অন্যায় থেকে, অসততা থেকে, অপরাজনীতি থেকে মুক্ত থাকতে পারেন তাহলে মুক্ত গণমাধ্যমের দিকে আমরা এমনিতেই এগিয়ে যাবো। কাজেই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে রাষ্ট্র, মালিক, সম্পাদক সবার কাছে আমার চাওয়া সাংবাদিকদের সব চাপ থেকে মুক্ত করুন। আর সাংবাদিকরা মুক্ত থাকুন সব অন্যায় থেকে। আর এই দুই মুক্তি হলেই প্রতিষ্ঠিত হবে মুক্ত গণমাধ্যম।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসমুক্ত গণমাধ্যম
শেয়ারTweetPin3

সর্বশেষ

নতুন নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মিসবাহ উল আজীম

জুলাই ১৬, ২০২৬

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সহোদরের মৃত্যু

জুলাই ১৬, ২০২৬

তিনটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩ যুবক

জুলাই ১৬, ২০২৬

শেষ বিশ্বকাপ এমন বলছি না: মেসি

জুলাই ১৬, ২০২৬

‘সর্বশ্রেষ্ঠ’ ম্যারাডোনার সাথে কখনোই তুলনা চাইনি: মেসি

জুলাই ১৬, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT