মুক্তিযোদ্ধারা যে এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, সেই বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। কিন্তু এই শ্রেষ্ঠ সন্তানরা অতীতে নানাভাবে অবহেলা ও অপমানের শিকার হয়েছেন। যার একটি হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ না করেও জালিয়াতির মাধ্যমে অনেকের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নেওয়া।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৩টি গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এসব গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা হতে হলে ১৩ বছর আর সর্বশেষটিতে ১২ বছর ৬ মাস বয়স নির্ধারণ করা হয়।
তবে মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে জারি করা সরকারের গেজেট ও এ সংক্রান্ত আইনের ধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রোববার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ওই রায়ে আদালত বলেছেন: বয়সের সীমা দিয়ে নয়, ঐতিহাসিক দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিতে হবে। সেই সাথে আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের বকেয়াসহ বন্ধ থাকা সম্মানী ভাতা পরিশোধ বা চালু করতে বলেছে আদালত। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এটি কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি এতই স্পর্শকাতর যে, দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা রায়ের শেষ পর্যায়ে এসে কেঁদেছেন রায় প্রদানকারী হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।
এর আগে গত ১৪ মে হাইকোর্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যম কর্মীদের সতর্ক করে বলেছিলেন: মুক্তিযোদ্ধা শব্দের আগে ‘ভুয়া’ শব্দটি ব্যবহার করলে প্রয়োজনে আদালতে তলব করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থে এসব পদক্ষেপে আমরা আশাবাদী এবং গর্ববোধ করছি। আমরা মনে করি, জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়া শূন্যের কোটায় নিয়ে এসে ইতোমধ্যে নিয়েছে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এর পাশাপাশি সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এর আগে বিভিন্ন সময় আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি এবং অপমানের শিকার হতে দেখেছি। তবে ভবিষ্যতে যেন তারা মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে জীবনযাপন করতে পারেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ, জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন বলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের এই ঋণ কখনোই শোধ হওয়ার নয়।








