এস. এম. হারুন-অর-রশীদ ১৪ই জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সাংবাদিক, নাট্যকার ও সংস্কৃতি কর্মী হারুন-অর-রশীদ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। পেশাগত জীবনে তিনি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য হিসেবে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর বহুমুখী কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান পদে যোগদানের অব্যবহিত পূর্বে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন অফিসে তিনি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
হারুন-অর-রশীদ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি রিয়াদ বাংলাদেশ মিশনেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ফ্রিকোয়েন্সি ম্যানেজমেন্ট এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উপর তিনি প্রভূত দক্ষতা অর্জন করেছেন। গণমাধ্যম ও যোগাযোগের উপর তিনি একজন বিশিষ্ট রিসোর্স পার্সন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভারত, বেলজিয়াম, সিঙ্গাপুর এবং হংকং থেকে হারুন-অর-রশীদ টেলিকম ম্যানেজমেন্ট, গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু উন্নয়ন এবং ট্রান্সমিশন ও ব্রডকাস্ট বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণগুলো তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে, তিনি হয়েছেন ঋদ্ধ। দেশের একজন প্রখ্যাত নতুনত্ব ও বিষয় বৈচিত্র্য নাট্যকার হিসেবে তিনি বেশ কিছু টেলিভিশন নাটক লিখেছেন। টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে জন্য তিনি বেশ কিছু পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন।
গণমাধ্যম ও যোগাযোগে অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। হারুন-অর-রশীদ ১৯৬২ সালে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জ বাংলাদেশের নদী তীরবর্তী একটি জেলা, যেখানে মানুষ ও প্রকৃতি উত্তাল যমুনার প্রবহমানতার সাথে প্রাণিত হয়। বাল্যকাল থেকেই হারুন-অর-রশীদ নদীর গতি আর প্রকৃতির সৌন্দর্যে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ লাভ করেন। আর নদীর সাথে তাঁর এই সখ্য তাঁকে নন্দনতত্ত্বে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি তাঁকে দায়িত্বপরায়ণ, বিনয়ী এবং অনুভূতিপরায়ণ করেছে। সম্প্রতি এই স্বনামধন্য নাট্য ব্যক্তিত্বের সাক্ষাতকার নিয়েছেন রাজু আলীম।
প্রশ্ন: নাটকই তো আপনার প্রথম?
এস. এম হারুন-অর-রশীদ: হ্যাঁ, অবশ্যই। নাটক দিয়েই আমার শুরু।
প্রশ্ন: নাটকের ভেতর দিয়েই জীবনটাকে পুরো দেখা?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: হ্যাঁ, অবশ্যই। নাটক হলো আসলে আমরা তো স্বপ্ন দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। আমাদের একেবারে কৈশরে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধের পরে অস্থির কিছু সময় আমরা দেখেছি। ইতিহাস বিকৃতি দেখেছি। জাতীর পিতাকে হত্যার নারকীয়তা আমরা দেখেছি। এই সব দেখতে দেখতে আমরা বড় হয়েছি এবং তার সাথে সাথে আমাদের মনে হয়েছে আমাদের এই দেশ আমাদের মানুষ আমাদের এই মৃত্তিকা এবং নিজের জন্যে কিছু করতে হলে আমাকে প্রথম স্বপ্ন দেখতে হবে। আমি যদি নিজে স্বপ্ন দেখতে না পারি তাহলে আমি অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারবো না। আর আমি স্বপ্ন না দেখলে সেটাকে বাস্তবায়ন করতে পারবো না।
প্রশ্ন: সময়টাকে বদলানোর জন্যে স্বপ্ন দেখা?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: স্বপ্ন দেখানোর মাধ্যম হিসেবে নাটক কিন্তু খুব একটা ফলপ্রসূ মাধ্যম বলে আমি মনে করি। আমি আমার পরিবার থেকে আমার পিতার হাত ধরে প্রথম নাটক আমি শুরু করি। সেটা একটা সময় ছিল একদম ছোট বয়েসে। এরপরে যখন তরুণ হলাম তখন যে তারুণ্যের উন্মাদনা আমার কাছে মনে হয়েছে নিজের কাছে অপশন হিসেবে নাটক অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। সম্পৃক্ত হয়ে হয়ে গেলাম নাটকের সাথে। সেই মফস্বল শহরে ১৯৭৭ সালে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পেশাগত কারণে অনেক সময় ধারাবাহিকভাবে সম্পৃক্ত থাকা সম্ভব হয়নি। কিন্তু নাটকের সাথে আছি। অভিনয়ের সাথে সম্পৃক্ত না হলেও লেখালেখির সাথে আছি।
প্রশ্ন: আপনার নাটকে জীবনের নানামাত্রিকতা এবং বিষয় বৈচিত্র্য আমাদের আকৃষ্ট করে- এই বিষয়ে কিছু জানতে চাই?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ : আমি মানুষের সম্ভাবনায় বিশ্বাস করি। সে শ্রমজীবী আটপৌরে সাধারণ মানুষ হোক এমনকি সে বিত্তশালী মানুষই হোক। প্রতিটি মানুষের ভেতরে কিছু আনন্দ আছে বেদনা আছে অপ্রাপ্তি কষ্ট এবং সম্ভাবনা আছে। আমি সম্ভাবনার জায়গাগুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করি। যেমন, আমার অন্যতম প্রতিপাদ্য বিষয় হলো নারী। সে নারী হলো প্রান্তিক নারী। সে নারী মধ্যবিত্ত নারী।
প্রশ্ন: নারীকে নিয়ে ঢাকা থিয়েটারে একটি নাটক এখনো হচ্ছে পঞ্চ নারী?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: হ্যাঁ, পঞ্চনারী। আমি মনে করি এই যে নারীর যে স্ট্রাগল, এটা কিন্তু বিশ্বজনীন। সুতরাং সেটাকে আমি আমার মায়ের ছেলে, আমি চার বোনের ভাই। আমি একমাত্র কন্যা সন্তানের পিতা…।
প্রশ্ন: এবং স্ত্রীর স্বামী? এটি বাদ দিচ্ছেন কেন?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: হা-হা-হা। অবশ্যই। সুতরাং আমি কিন্তু তাদের জায়গায় থেকে তাদেরকে বোঝার চেষ্টা করি। আমার মনে হয়েছে যে, এটিই নাটকের একটি বিষয় হতে পারে। আরেকটি হলো আমার চাকরি জীবন আমাকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা নাটক লেখার ক্ষেত্রে প্রেরণা যুগিয়েছে এবং আমাকে কিছু অ্যাড করতে সুযোগ দিয়েছে যেমন, আমি চাকরির কারণে বিভিন্ন জায়গায় থেকে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। অনেকে অফিসে অনেক মানুষ আসলে খুব বিরক্ত হন। আমি কিন্তু বিরক্ত হই না। আমি ওই মানুষটার ভেতরটা জানার চেষ্টা করি। তার ভেতরে স্টোরি এবং ক্যারেকটার খুঁজি এবং আমার সব নাটকেই আমার অদেখা চরিত্র এনেছি এমন নাই। দু একটি হয়েছে যে, কল্পনার রাজ্যে গিয়ে চরিত্র চিত্রন করেছি। তাছাড়া আমি কিন্তু দেখা চরিত্রগুলোই আমার মত করে আমি ব্যাখ্যা করি।
প্রশ্ন: পুত্র চলচ্চিত্রের কাহিনী এবং সংলাপ তো আপনার লেখা?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: হ্যাঁ, আমার। ধারণাটাও আমারই ছিল। এখানেও আমি বলি আমার কাছে মনে হয়েছে যে, পুত্র চলচ্চিত্রে আমরা দেখানোর চেষ্টা করেছি যে, এই যে বিশেষ যে শিশু এই বিশেষ শিশুর মায়ের যে স্ট্রাগল। সে একজন দরিদ্র মায়ের যে স্ট্রাগল তার সাথে একজন বিত্তবান মায়ের স্ট্রাগল তার ভেতরে কিন্তু খুব একটা পার্থক্য আছে বলে আমি মনে করি না। বা পরিবারের যে সংকট সেই সংকটে যে খুব বড় পার্থক্য আছে তা কিন্তু নয়। সেটা আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি এই বিশেষ শিশুদের যে বিশেষত্ব এবং তাদের যে সৃজনশীলতা এবং তাদের যে সৃজনশীল সম্ভাবনা সেই সম্ভাবনা দিয়ে আমরা মানুষকে সচেতন করতে চেয়েছি মানুষকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছি এবং পিতা মাতাকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছি এবং আমরা নিজেরা আশ্বস্ত হতে চেয়েছি।
প্রশ্ন: আপনি বলেছেন আপনি কৈশোরে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন। আমরা কিছুদিন আগে দেখেছিলাম- ‘যা ছিল অন্ধকারে’ বিচারপতি হামিদুর রহমান কমিশন এর একটি রিপোর্ট। এটি নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান বিটিভি সম্প্রচার করেছিল। ছোটবেলা মুক্তিযুদ্ধ সরাসরি দেখতে পেয়েছিলেন বলেই কি এই দায়িত্ববোধ আপনার ভেতরে কাজ করেছে?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: আসলে আমার কাছে যেটি মনে হয়- আমরা আমাদের যে নতুন প্রজন্ম তারা অনেক সচেতন। তারপরেও আমোদের পক্ষে যে দায়িত্ব পালন করা দরকার- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে কী ঘটেছিল? সেই বাংলাদেশে কী চেহারাটা ছিল? সেই চেহারাটা আমরা বোধ হয় তাদেরকে ঠিকমতো দেখাতে পারিনি। আমাদের দায়িত্ব বোধ হয় আমরা ঠিকমতো পালন করতে পারিনি।
পাকিস্তান সরকার হামিদুর রহমান কমিশন গঠন করেছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী কেন বাংলাদেশে পরাজিত হয়েছে তার কারণ ঠিক করার জন্য। এতে কোন না কোন মানুষকে দায়ী করে ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটলো এবং সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীতে যারা বাঙালি দায়িত্ব পালন করেছে যুদ্ধের সময়ে তারা ঘটনার এবং বীভৎসতার যে বিবরণ দিয়েছে তাতেই কমিশন আঁৎকে উঠেছে যে, কী ঘটনা ঘটেছিল? এই সমস্ত ঘটনা উৎঘাটনের দায়িত্ব কমিশনের ছিল না। পরে কমিশন যখন প্রতিবেদন জমা দেয় তখন জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রাইম মিনিষ্টার। তিনি বলেছিলেন যে, এই প্রতিবেদন পুড়িয়ে দাও।
পরে ১৯৯৮ সালের দিকে ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় এই প্রতিবেদনের অংশ বিশেষ প্রকাশিত হয়। তখন থেকেই আমাদের ইচ্ছা ছিল যে, এই প্রতিবেদন নিয়ে অন্ততপক্ষে পাকিস্তানের লোকেরা কিভাবে বিবরণ দিচ্ছে তা যদি আমাদের মত করে আমাদের জেনারেশনকে জানাতে পারি যে, তারা রেখে ঢেকে কিছুই বলেনি তারপরেও যা বলেছে যেমন, একজন কর্নেলকে জিঞ্জেস করা হয়েছে যে, আপনি একরাতে ৫০০ বাঙালিকে মেরে ফেলেছেন এবং আপনি তাদেরকে জবাই করে মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছেন? তখন তিনি বলেছেন যে, আমি বুঝতে পারছি না এর জন্যে আমাকে কমিশন ভৎসনা করছে কেন? কারণ আমি ওই সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৫০০ রাউন্ড গুলি সেভ করেছি। এই রকম বিবরণ তারা দিয়েছে। সুতরাং এই বিরণ জানা দরকার এবং এর সাথে সাথে আমি মনে করি যে, বাংলাদেশে আমাদের যে আত্মত্যাগ দাম দিয়ে কেনা স্বাধীনতা এই দামটা আমাদের নতুন প্রজন্মকে আমরা যদি খুব ভালভাবে বোঝাতে পারি। তারা বোঝে। কিন্তু তারপরেও আমরা যদি আরেকটু দায়িত্বশীল হই তাহলে আমরা যে আমাদের বাংলা ভাষা বাংলা সংস্কৃতি বাংলায় কথা বলা বাংলাকে নিয়ে ভাবা বাংলাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা বাংলায় স্বপ্ন দেখা এটার যে ঘাটতি আছে বলে আমরা মাঝে মাঝে একটু আক্ষেপ করি, এই আক্ষেপটা পূরণ হয়ে যাবে যদি তারা দেশকে প্রকৃতভাবে জানতে পারে।
প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধে আমাদের উপরে চালানো নারকীয়তা আমরা আমাদের শিল্প সাহিত্যের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারছি না বলে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব এই প্রজন্ম তেমনভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: আমার তাই মনে হয়। লেখা হয়েছে। কিন্তু খণ্ডিত খণ্ডিত কিছু কথা কিছু সাবক টেক্সট নিয়ে আমরা কথা বলেছি বেশি। কিন্তু টেক্সট নিয়ে কথা বলিনি। সুতরাং আমার নিজের যেমন স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা।
প্রশ্ন: সেটা কি মহাকাব্যিক প্রেক্ষাপটে?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ : অবশ্যই। মুক্তিযুদ্ধের কতগুলো ঘটনা আপনি দেখেন যে, প্রথমত হলো যুদ্ধ। দ্বিতীয়ত হলো এর রাজনীতি। মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি নিয়ে কিছু্ হয়নি।
প্রশ্ন : যুদ্ধটাকে খুব একটা দেখায়নি।
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ : না, যুদ্ধেরই তেমন ছবি হয়নি।
প্রশ্ন: আমরা কিছু আগুন দেখিয়েছি কিছু ধ্বংস কিছু ধর্ষণ দেখিয়েছি আর আমরা রাজাকার রাজাকার বলেছি- এমনকি আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলাম সেখানেও যুদ্ধটা যে কত ভয়াবহ ছিল এই বিষয় সেখানেও জোরেশোরে বলা হয়নি?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: না হয়নি। একজন যুদ্ধাপরাধী। তার যে বিভৎসতা, সেই বীভৎসতা তো জানতে হবে। মানুষকে বুঝতে হবে যে সে কী করেছিল? ঘৃণার চেয়ে সবচেয়ে বড় মনে করি- দামটা যদি আমরা বুঝতে পারি। সেই দামটা বোঝা দরকার। তাহলেই তার প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হবে। একজন মানুষ যার ভেতরে দেশপ্রেম আছে তিনি অসৎ হতে পারেন না। একজন মানুষ যারা মধ্যে দেশপ্রেম আছে তিনি মিথ্যা কথা বলতে পারেন না। তিনি তার সংস্কৃতি থেকে বাইরে যেতে পারেন না এবং আমাদের এই স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভুলিয়ে দেয়ার জন্যেও চেষ্টা করা হয়েছে।
যেমন, আমরা বিটিভিতে একটা অনুষ্ঠান করেছি-জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৭ মার্চ এর ভাষণ নিয়ে ‘আনে মুক্তি আলো আনে।’ যেমন আমরা ঢাকায়ি এসেছি। আ্মরা তো রেসকোর্স এ রেস দেখি নাই। আমরা দেখেছি রেসকোর্স এখানে একজন মানুষ তিনি আঙুল তুলে বলেছিলেন- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। কিন্তু আমরা ঢাকায় এসে দেখি সেই রেসকোর্সটাকে উদ্যান করা হচ্ছে। শিশু পার্ক করা হচ্ছে। এই যে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা যে ওখানে এই রকম কিছু ঘটেনি। এখানে এই রকম বিনোদন সম্ভার আছে। সুতরাং এই যে, ভুলিয়ে দেয়ার জায়গা থেকে আমরা যে বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি এটিই স্বস্তির জায়গা।
প্রশ্ন : রাজনৈতিক পট চেঞ্জ না হলে লোকে এক সময় ভুলেই যেতো?
এস. এম. হারুন-অর-রশীদ: অবশ্যই। সেই চেষ্টা তো জোরেশোরে করা হয়েছে। মঞ্চটাকে ঢেকে দিয়ে শিশু পাক করা হয়েছে। তাই আজকে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। যারা আমরা একটু নাটকের সাথে সম্পৃক্ত যারা কবিতার সাথে সম্পৃক্ত। কবিতা কিন্তু অনেক ভাল হয়েছে? কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ অনেক এসেছে। বাংলাদেশের গল্পে সাহিত্যে আরও অনেক কিছু করার আছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। আমরা ঠিক ওই রকম মাপের কোন কিছু এখানে দেখছি না। উপন্যাসে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বড় ক্যানভাসে তেমন কিছু হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে আমাদের ক্ষতি কি কম হয়েছে? আজকে দু ওমেন আমাদের দেশে হয় না এমন ছবি। এখানে ব্যালেড অফ এ সোলজার হয় না? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান্ধির মত সিনেমা তৈরির চিন্তা করছে সরকার। ওই মানের একটি সিনেমা। একজন বঙ্গবন্ধু তিনি কিভাবে? বাঙালি তো যোদ্ধা জাতি না। সেই একটা নিরীহ জাতিকে তিনি যোদ্ধা জাতি হিসেবে তৈরি করলেন এবং একটা পরাক্রমশালী একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তিনি যে উজ্জীবিত করলেন এই বিষয়গুলো কিন্তু সিনেমা এবং সাহিত্যে আসেনি।
সুতরাং এই বিষয়গুলো সাহিত্য ও নাটকে আনতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের নাটক মানেই কয়েকজন রাজাকার একটু যুদ্ধ কয়েকটা ধর্ষণ- এর বাইরেও প্রেক্ষাপট অনেক বিস্তৃত- তা তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দরকার। আজকে বঙ্গবন্ধু বললেন তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। তার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তো লাগবে। আজকে আমি যদি বলি আমি এইটুকু জায়গা স্বাধীন ঘোষণা করলাম- তা কি কাজকর্ম হবে? হবে না।








