মুক্তিযুদ্ধে মোনায়েম খানকে হত্যা করা হলেও তারা বিষের সংক্রমণ রেখে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জামেল হোসেন বীর প্রতীক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, মোনায়েম খানের নাতি জঙ্গি আকিফুজ্জামানের এই পৈশাচিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় আরও একবার প্রমাণিত হয় যে ১৯৭১ সালে যারা নৃশংসতা চালিয়েছিল, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধীরা যাতে কোন ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে না যেতে পারে তাও নিশ্চিত করতে হবে।
সম্প্রতি পুলিশের জঙ্গি অভিযানে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে আকিফুজ্জামান খান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কুখ্যাত গর্ভনর আব্দুল মোনায়েম খানের নাতি।
১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খানকে হত্যার করার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জামেল হোসেন বীর প্রতীক। তার স্টেনগানের ব্রাশফায়ারেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মোনায়েম খান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় এই পাকি দোসর।
মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জামেল হোসেন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে কোন আপোষ নেই, মোনায়েম খানের নাতি আকিফুজ্জামান প্রমাণ করেছে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করা যাবে না।
মোনায়েম খানের তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আখতারুজ্জামান বাচ্চু। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি মিশরের কায়রোতে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। মোনায়েম খানের আরেক ছেলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান খান। ছোট ছেলে সাইফুজ্জামান খান। রাজধানীর গুলশানের ১০ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বরে তার বাসা। কয়েক বছর আগে তিনিও মারা গেছেন। কল্যাণপুর অভিযানে নিহত জঙ্গি আকিফুজ্জামান খান সাইফুজ্জামান খানের ছেলে।
যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবি কার্যকর করতে শাহবাগের গণজাগরণে যে তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছিল তার পাশপাশি একটি গোষ্ঠী আজ জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেন এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জামেল হোসেন বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটা গোষ্ঠী আজ হতাশাগ্রস্ত। মানুষ যখন হতাশাগ্রস্ত হয় তখন নিজের জীবনের প্রতি গুরুত্ব থাকে না। এই হতাশা থেকেই তরুণ সমাজের একটা শ্রেণী জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকছে।
মোজ্জামেল হোসেন বীর প্রতীক আরও বলেন, ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি ‘বাংলাদেশ’ পেয়েছিল। আজ দেশটির বয়স ৪৫ বছর। এই সময়ে অনেক কিছুই অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আবার পারেনিও অনেক কিছুই। বাঙালি অতীতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা বীরের জাতি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদ যে উত্থান সেটাও সমূলে দূর হবে। আমাদের দেশের বিপুল সম্ভাবনাময় নতুন প্রজন্ম রয়েছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করবে। যে চেতনা, আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছে, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এ প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
জঙ্গিবাদ দমনে বর্তমান সরকারের আরও কি পদক্ষেপ নিতে হবে এ প্রসঙ্গে মোজ্জামেল হোসেন বীর প্রতীক বলেন, দেশে আরও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, সকল জনগণের প্রতি ন্যায়ের শাসনের বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় অপারেশন মোনায়েম খান সফল করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম দেশপ্রেম ও দুঃসাহসিক প্রতিশ্রুতির মধ্যদিয়ে। বর্তমান সময়েও জঙ্গিবাদ রুখতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সম্প্রতি রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশের জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন স্টর্ম-২৬ এ নিহত নয় জঙ্গির মধ্যে আটজনের পরিচয় মিলে। এর মধ্যে তিনজন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের, তিনজন মাদ্রাসার এবং অপরজন নোয়াখালীর একটি কলেজের ছাত্র ছিল। 
বৃহস্পতিবার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এবং কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আকিফুজ্জামানের আঙ্গুলের ছাপে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার দাদা মোনায়েম খান তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের সাবেক গভর্নর ছিল।
আকিফুজ্জামান খানের বাবা সাইফুজ্জামান খান। মা শাহনাজ নাহার। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করা এই যুবকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ২৬১১০৬০০১০০৬।







