মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণস্থল দিনাজপুর মহারাজা গিরিজানাথ স্কুল প্রাঙ্গণে ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৫০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্মাণ হওয়া এই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে বিজয়ের স্বাদ নিয়ে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা সমবেত হতে থাকেন বিভিন্ন ট্রানজিট ক্যাম্পে। সেখানেও অনেক কাজ। বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পুঁতে রাখা, ফেলে রাখা, ছেড়ে যাওয়া মাইন, বোমা ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করা। প্রতিদিনের উদ্ধারকৃত অস্ত্র ট্রানজিট ক্যাম্পের বড় বাংকারে রেখে দেওয়া।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ৬ ও ৭ নং সেক্টরের আওতায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের যেসব মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তাদের নিয়ে ট্রানজিট ক্যাম্প করা হয়, দিনাজপুরের মহারাজা গীরিজানাথ হাইস্কুল প্রাঙ্গণে। প্রায় সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধার সমাগম ছিল এ ট্রানজিট ক্যাম্পে কিন্তু বিজয়ের মাত্র ২০ দিন পর ১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারি সব আনন্দ উদ্দীপনা নিঃশেষ হয়ে যায় এক অকল্পনীয় দুর্ঘটনায়। সূর্য তখন অস্তগামী। আকাশে লাল আভা।
ঠিক এ সময় অকস্মাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলো মহারাজা স্কুল। স্কুলের দ্বিতল ভবন গুঁড়িয়ে যায়। স্কুলের বিশাল এলাকা এবং এর চারপাশে নিহত আর আহত মানুষের পোড়া গন্ধে ভয়ংকর এলাকায় পরিণত হয় ট্রানজিট ক্যাম্প। এই ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণে প্রায় ৫ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। আহত হন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা।
সেই দিনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনেরা এখনো খুঁজে ফিরে বাড়ি না ফেরা আপনজনকে। তারা দিনটি পালন করে নীরবে-নিভুতে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা গুলজার রহমানের ছেলে কাওসার পাভেজ মিলন বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৫০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৬ জানুয়ারির ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরণস্থল দিনাজপুর মহারাজা গিরিজানাথ স্কুল প্রাঙ্গণে ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ নির্মিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের সহায়তায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ।
স্বাধীন বাংলাদেশে এত বড় ট্র্যাজেডি আর কোথাও হয়নি। একসঙ্গে কয়েকশ’ বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ ঝরে যাওয়া বড়ই মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক ও অকল্পনীয়। তাদের এ প্রাণ বিসর্জন বেদনাদায়ক।







