মুক্তচিন্তার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া কখনই মেনে নেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পয়লা বৈশাখে শুভেচ্ছা বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা বা বলা যেমন নোংরামি, তেমনি এ কারণে মানুষ খুনও সমাধান নয়।
সার্বজনীনতার মধ্যে দিয়ে জরা-জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে বাঙালি জাতি। বাংলা বছরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা। শুভেচ্ছা জানাতে আসেন সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারাও।
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালির এটিই চিরাচিরত রীতি যেখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষ সবাই উৎসবে একাত্ম হয়। তিনি বলেন, একটি নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করার জন্য কি কি করনীয় আমরা তার অনুশাসন দিয়ে থাকি। সেজন্য এবার নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বৈশাখের সমস্ত অনুষ্ঠান পাঁচটার মধ্যে শেষ করতে হবে। এই নির্দেশনায় দেখলাম কেউ আবার ক্ষোভ প্রকাশ করলো।
তাই যারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তাদেরকে বলতে চাই যদি কোনো অঘটন ঘটে তাহলে কি তিনি দায়িত্ব নিবেন? কাজেই বলতে চাই সরকারের পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে সবাই যথাযথ ভাবে মেনে চলবেন। এবং সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে এই উৎসবটি সবাই উদযাপন করবেন।
ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত দেয়া সমর্থন করেন না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। আমার ধর্ম আমি পালন করি কিন্তু আমার ধর্ম নিয়ে কেউ যদি নোংরা কথা লেখে, বাজে কথা লেখে আমরা কেনো মেনে নেবো। 
বর্তমানে একটা ফ্যাশন দাঁড়িয়েছে ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই তারা মুক্তচিন্তার লেখক। কিন্তু আমি এখানে কোনো মুক্তচিন্তা দেখি না, আমি এখানে দেখি নোংরামি।
তিনি আরো বলেন, যাকে আমি নবী মানি তার সম্পর্কে নোংরা কথা কেউ যদি লেখে সেটা কখনো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। ঠিক তেমনি অন্য ধর্ম নিয়েও যদি কেউ কিছু লিখে সেটিও গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এ লেখার জন্য কোনো অঘটন ঘটলে সেই দোষ সরকারের ওপর আসবে কেনো। সবাইকে শালীনভাবে চলতে হবে।
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।








