দিনের শুরুটা অনুকূলে ছিল না বাংলাদেশের। ৩১ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়েছিল টিম টাইগার্স। শুরু চাপ সামলে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। অধিনায়ক শান্তর সেঞ্চুরি এবং মুমিনুলের ৯১ রানে প্রথমদিনে চালকের আসনে স্বাগতিকরা। মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৪৮ রানে ভর করে তিনশ পেরিয়ে প্রথমদিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়িয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। টসে জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। ৮৫ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৩০১ রানে দিনের খেলা শেষ করেছে শান্তর দল। মুশফিকুর রহিমের সাথে লিটন দাস ৮ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।
সকালে ব্যাটে নেমে অতিথি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাসের বল সামলানো শুরুতে ছিল কঠিন। সাদমান ইসলামকে খানিকটা সাবলীল দেখা গেলেও মাহমুদুল হাসান জয় ছিলেন নড়বড়ে। দলীয় ১৮ রানে জয় আউট হয়ে যান। শাহিন আফ্রিদির খাটো লেন্থের আউটসুইং বল অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল। মনোসংযোগে ঘাটতি নিয়ে অলস ভাবে ব্যাট চালানোর মাশুল দেন জয়। ব্যাটের কানায় হালকা স্পর্শ লেগে বল যায় উইকেটরক্ষক রিজওয়ানের গ্লাভসে। ৮ রান করেন জয়।
৩১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। একাদশতম ওভারে বল হাতে নিয়ে প্রথম ডেলিভারিতেই ১৩ রান করা সাদমানের উইকেট তুলে নেন হাসান আলী। ওভার দ্য উইকেট থেকে করা খাটো লেন্থের বল মিডল স্টাম্পে পিচ করে সামান্য পিছলে অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল। সাদমান ঠিকঠাক খেলতে না পারায় ব্যাটের কানায় লেগে বল দ্বিতীয় স্লিপে সালমান আলি আগার হাতে জমা পড়ে।
সেখান থেকে ম্যাচের মোড় বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে নেন মুমিনুল-শান্ত জুটি। দুজনে প্রথম সেশনে শেষ করে দ্বিতীয় সেশনের অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দেন। তৃতীয় উইকেটে ২৫৭ বলে ১৭০ রান যোগ করে এই জুটি। দলীয় ২০১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি করে চা বিরতির তিন মিনিট আগে আব্বাসের বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন শান্ত। ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রান করে যান অধিনায়ক।
দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২০১ রান। মুমিনুল হক ১৪০ বলে ৬৪ ও মুশফিকুর রহিম রানের খাতা না খুলে চা বিরতির পর তৃতীয় সেশন শুরু করেন। জুটিতে ৭৭ রান যোগ করে দুজনে।
দলীয় ২৭৬ রানে নার্ভাস নাইন্টিতে মুমিনুল কাটা পড়লে জুটি ভাঙে। ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে না পেরে নোমান আলির বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফেরেন মুমিনুল, ১০ চারে ২০০ বলে ৯১ রানে।
মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস দিনের খেলা শেষ করেন। ৬ চারে ১০৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত মুশফিক, ৩৫ বলে ৮ রানে লিটন।
প্রথমদিনে পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলি, নোমান আলি ও মোহাম্মদ আব্বাস।







