মিশরের উত্তর সিনাই প্রদেশের বির আল-আবেদ শহরের আল-রউদা মসজিদে স্মরণকালের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। উত্তর সিনাই প্রদেশের এই মসজিদে জুমার নামাজের সময় করা ওই হামলায় আহত হয়েছেন শতাধিক মুসল্লি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ অন্যান্য বিশ্বনেতারা এই মর্মান্তিক হামলার নিন্দা জানিয়ে শোক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া এই ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে মিশরের সরকার।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে: জুমার নামাজ চলার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর রাস্তা থেকে চারটি গাড়িতে করে বন্দুকধারীরা মুসল্লিদের উপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে।
২০১৩ সালের পর থেকে দেশটিতে ধর্মভিত্তিক সন্ত্রাসীদের হামলা বেড়েছে। মসজিদের ভেতরের ছবি থেকে হামলায় নিহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সমর্থক ছিলেন এই হামলার লক্ষ্য। তিনি এসময় সেখানে নামাজ পড়ছিলেন।
মিশরের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এক্সট্রা নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি। তবে শুক্রবার জুমার নামাজে এই হামলা কারা চালিয়েছে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
সেনা হস্তক্ষেপে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির পতন হলে এই ঘটনার জেরে ২০১৩ সালের পর প্রদেশটিতে রক্তক্ষয়ী হামলা বেড়ে যায়, এসব হামলায় সন্ত্রাসীদের মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
চলতি বছরের জুলাইয়ে সিনাইয়ের দুটি সেনা চেকপোস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৩ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারান। কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছিলো। এছাড়া মে মাসে দক্ষিণ মিশরে এক সন্ত্রাসীর গুলিতে ২৯ জন মিশরীয় খ্রিষ্টান নিহত হয়।
তবে নিহতের সংখ্যায় দেশটির ইতিহাসের ভয়াবহতম হামলা। এর আগে ২০১৫ সালে উত্তর সিনাই প্রদেশে একটি মেট্রোজেট প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে ২২৪ জন নিহত হয়েছিলো।







