মারকুটে ব্যাটিংয়ের কারণেই ‘কিলার মিলার’ নামটা জুটেছে। সেই মিলারের স্বভাববিরুদ্ধ এক ব্যাটিং প্রদর্শনীতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ২১৯ রান তুলেছে সাউথ আফ্রিকা। তারপরও হয়ত নিরাপদে নেই প্রোটিয়ারা। পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে এসে ৭ ওভারেই যে ৪০ রান তুলে ফেলেছে কোন উইকেট না হারিয়ে।
পাকিস্তানি বোলারদের দাপটের মুখে বারবার ভেঙে পড়েছে সাউথ আফ্রিকার প্রতিরোধ। ব্যতিক্রমী ছিলেন কেবল মিলার। দলের মহাবিপর্যয়ে ১০৪ বলে খেলেছেন অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস। ১ চার ও ৩ ছয়ে সাজানো ইনিংসটি। তাতে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে দুইশর ওপরে থামে ডি ভিলিয়ার্সের দল।
ওভালে প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৯৯ রান তোলার পর শ্রীলঙ্কাকে ২০৩ রানে থামিয়ে ৯৬ রানে জয় পেয়েছিল আফ্রিকানরা। এজবাস্টনে এমন কিছুর আশাতেই হয়ত টস জিতে ব্যাটিং নিতে দুবার ভাবেননি ডি ভিলিয়ার্স। শুরুটা মন্দও হয়নি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান হাশিম আমলা (১৬) এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে সূচনার ৪০ রানের জুটি।
অন্য ওপেনার কুইন্টন ডি কক ৩৩ রানে থেমেছেন হাফিজের বলে লেন্থ না বুঝে স্লগসুইপ খেলতে গিয়ে। এলবিডব্লিউ তিনিও। প্রোটিয়া ইনিংসে চাপ নেমে আসে তখনই। পরের ওভারেই যখন ইমাদ ওয়াসিমের অফস্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স, রানের খাতা খোলার আগেই। নিজের ২২০তম ওয়ানডেতে এসে প্রথম ‘গোল্ডেন ডাক’ মারলেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।
তিন উইকেট তুলে নিয়ে প্রোটিয়াদের উপর ছড়ি ঘোড়াতে থাকেন পাক বোলাররা। শুরুটা হয়েছিল স্পিনারদের হাতে, আর কোমরটা ভাঙেন পেসার হাসান আলি। পরের তিন উইকেটটি তার। পরপর দুবলে জেপি ডুমিনি (৮) ও ওয়েন পারনেলকে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন এই ডানহাতি পেসার।
দলীয় ১১৮ রানে ৬ উইকেট নেই, লজ্জাই অপেক্ষা করছিল প্রোটিয়াদের জন্য। কিন্তু তখনও ছিলেন মিলার। হাল ধরে একপ্রান্ত আগলে খেললেন এই বাঁহাতি, দুশো পেরোল আফ্রিকা।
বাকিদের মধ্যে ক্রিস মরিস ২৮ ও কাগিসো রাবাদা ২৬ রানের ইনিংস খেলে খানিকটা অবদান রেখেছেন।
এই মাঠেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন শুরু করে পাকিস্তান। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ছন্নছাড়া দেখা গিয়েছিল দলটির খেলোয়াড়দের। এক ম্যাচ পরেই স্বরূপে ফেরার আভাস। বোলাররা অর্ধেক কাজ করে দিয়েছেন। বাকি কাজটুটু এখন নির্ভর করছে ব্যাটসম্যানদের উপর।










