ইরানের রাজধানী তেহরানে পার্লামেন্ট ভবন এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মাজারে একই সঙ্গে দুইটি হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএস। ইরানে আইএস’র দাবি করা প্রথম হামলা এই দু’টি, যাতে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে আইএস জানায়, তাদের ৫ জন যোদ্ধা এই হামলায় অংশ নিয়েছে। ইরানের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া মুসলিমদের উপর আবারও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে জঙ্গি দলটি। এছাড়াও একটি ভিডিও প্রকাশ করে তারা, সংসদ ভবনের ভেতর থেকে যা ধারণ করা হয় বলে দাবি দলটির।
ইরানের একজন সংসদ সদস্য পরে নিশ্চিত করেন, ভিডিওতে তার কার্যালয় দেখা যাচ্ছে এবং তার একজন কর্মচারী সেখানে মৃত পড়ে রয়েছেন।
ইরাক এবং সিরিয়ায় আইএস বিরোধী যুদ্ধে ইরানের সক্রিয় অংশগ্রহণের পরও সুন্নিপন্থী জঙ্গি দলটি এর আগে ইরানে কোন হামলা চালায়নি এবং শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে তাদের সমর্থনও অনেক কম।
তবে এই হামলার পেছনে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরানের রেভোলিউশোনারি গার্ডস।
নিহতের সঠিক তথ্য নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে। হামলাকারীসহ ১২ জন নিহত হয়েছে, নাকি দু’টি হামলার ঘটনায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছে, না শুধুমাত্র সংসদ ভবনেই ১২ জন নিহত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়াও হামলা দু’টিতে ৪০ জন আহত হয়েছে বলে জানায় জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার প্রধান পির হোসেইন কোলিভান্দ।
তৃতীয় আরও একটি হামলা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে বলেও জানায় ইরানের কর্তৃপক্ষ।
সন্ত্রাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।
ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন হামলাকারী হঠাৎ করেই একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে গুলি চালাতে শুরু করে। ইরানের এমপি এলিয়াস হজরতি বলেছেন, তিন হামলাকারীর দু’জনের হাতে কালাশনিকভ রাইফেল এবং একজনের কাছে একটি কোল্ট পিস্তল ছিল।
একই সময়ে পার্লামেন্ট ভবন থেকে বেশ দূরে দক্ষিণে ইরানের আধুনিক ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জনক ও ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমিনির মাজারে গুলিবর্ষণের খবর জানায় বিবিসি।
মাজারের জনসংযোগ কর্মকর্তা আলী খলিলি বার্তা সংস্থা ইরনাকে জানায়, সেখানে হামলাকারীদের একজন মাজারের বাইরে অবস্থিত ব্যাংকের সামনে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
ইরানের সংসদ ভবনে হামলা চালানো ৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। আর আয়াতুল্লাহ খোমিনির মাজারে একজন হামলাকারী আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় এবং অপরজনকে নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করে।







