চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের ‘চোর’ বলায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক নেতারা।
সংসদ সদস্য মির্জা আজমের এই বক্তব্যকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অশালীন, মানহানিকর ও মহান পেশায় নিয়োজিত চিকিৎসক সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মনে করেন তারা।
সাবেক এ নেতারা এক বিবৃতিতে এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে জনসম্মুখে ক্ষমা প্রার্থনা করার জোর দাবি জানান।
জামালপুর জেলাস্থ ‘প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি’র এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মির্জা আজম বাংলাদেশের চিকিৎসক ও প্রকে․শলীদের ‘চোর’ বলে আখ্যায়িত করেন।
বিএমএ’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম আজিজুল হক ও সংগঠনটির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম জাহিদ হোসেন সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংসদ সদস্য মির্জা আজমের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান নেতারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে চিকিৎসক সমাজের অবদান সর্বজন প্রশংসনীয়। সাম্প্রতিক করোনাকালীন সময়ে চিকিৎসক সমাজ নিবেদিতভাবে দেশের আপামর জনসাধারণের সেবা করে গিয়েছেন। চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে গিয়ে প্রায় ২ শতাধিক চিকিৎসক শহীদ হয়েছেন এবং ৩ হাজারেরও অধিক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রায় সকলের পরিবারও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ডেঙ্গু মহামারিসহ সকল স্বাস্থ্য সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসকদের অবদানও অনস্বীকার্য। জাতীয় ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোন সংকটে নিঃস্বার্থভাবে নিবেদিত চিকিৎসক সমাজকে ‘চোর’ বলে আখ্যায়িত করে সংসদ সদস্য মির্জা আজম অসুস্থ ও বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন বলে বিএমএ’র সাবেক নেতৃবৃন্দ মনে করে। নির্বাচন কমিশনে সংসদ সদস্য মির্জা আজমের
নিজের দেয়া হলফনামা অনুযায়ী তার নগদ অর্থ ৩৩ গুণ বৃদ্ধিসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তার ব্যক্তিগত কার্যক্রমের প্রমাণ বহন করে।
বিএমএ’র সাবেক নেতৃবৃন্দ সারা দেশের চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে- মহান পেশায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের বিষয়ে সাংসদের এরূপ অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অশালীন, মানহানিকর বক্তব্য অভিলম্বে জনসম্মূখে প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনা করার জোর দাবী জানান।








