বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এটিএন বাংলা’র সিনিয়র ক্যামেরা পারসন সফিকুল ইসলাম মিঠু হত্যায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তিন আসামির করা আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি ভাবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতির মো. কামরুল হেসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামি মো. রতন মিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনোয়ারুল ইসলাম আর আসামি মো. সুজন ও মো. রাজু ওরফে জামাই রাজুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম।
এই মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে ৮ মে রাতে অফিস শেষ করে রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কারওয়ান বাজারের এটিএন বাংলার কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় বাসায় ফেরার জন্য গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন যাত্রী বহনের ছলে সফিকুল ইসলাম মিঠুকে তুলে নিয়ে যায় ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্য। ছিনতাইয়ের এক পর্যায়ে মিঠুর পরিচয় জানতে পেরে তাকে হত্যা করে লাশ তুরাগ থানার রোস্তমপুর এলাকার বেড়িবাঁধের ঢালে ফেলে রেখে যায় তারা।
বাসায় না ফেরায় পরদিন সকালে সাংবাদিক মিঠুর ছোটো ভাই মো. রহমত উল-ইসলাম (৩৫) দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পরপরই দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানতে পারেন তুরাগ থানা এলাকার বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি অজ্ঞাত মৃতদেহ পড়ে আছে।
পরে মিঠুর লাশ সনাক্ত করেন করেন তার ভাই। তিনি অজ্ঞাতদের আসামি করে তুরাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তিনদিন পর আসামি রতন ঢাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে মিঠু হত্যার কথা স্বীকার করে। পরদিন মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে মিঠু হত্যার ঘটনা।
এর দুইদিন পর আরেক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রেপ্তার হন অপর দুই আসামি মো. রাজু ও মো. সুজন। পরদিন টাঙ্গাইলের হাকিম আদালতে দেওয়া এ দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ওই বছরের ৬ জুলাই ঢাকায় মহানগর হাকিম আদালতে এ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
সেখানে সাংবাদিক মিঠু হত্যার মূল হোতা রাহাতের নাম উঠে আসে। রাহাত এ মামলার তদন্তকালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। পরবর্তীতে তুরাগ থানার পুলিশ ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ মামলার চার্জশীট দেয়। পরে মামলাটি মহানগর হাকিম আদালত থেকে মহানগর সেশন জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।
২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত সেশন জজ (তৃতীয়) আখতারুজ্জামান তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।







