গেইল ঝড় যেদিন ওঠে, সেদিন ব্যস্ত থাকতে হয় দর্শকদেরও! গ্যালারিতে বল কুড়াতে। বোলার, ফিল্ডারদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া করার কিছুই থাকে না। মাঠে তেমনি এক অসহায় দিন গেল খুলনা টাইটানসের। তাতে রংপুরের ওপেনার ক্রিস গেইলের তাণ্ডবে ভেঙে গেছে মাহমুদউল্লাহদের ফাইনাল স্বপ্ন। খুলনার অধিনায়ক ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করলেন শুরুতেই গেইলকে ফেরাতে না পেরে। সেটাই স্বস্তির রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফীর জন্য।
‘আমরা জানি ও(গেইল) অনেক বড় মাপের খেলোয়াড়। ভাল ইনিংস খেলার সক্ষমতা আছে। উইকেটে থিতু হয়ে গেলে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। শুরুতেই উইকেট না নিলে ওকে আটকানো খুব কঠিন। আমরা সেটা পারিনি। এজন্যই আজকের ফলাফল। ১৬৭ ভাল স্কোর ছিল। আশা ছিল সেরা দুইয়ে থাকার। ফাইনাল খেলার।’
বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে শুক্রবার মিরপুরে ছক্কার বৃষ্টি নামিয়েছেন গেইল। ৫১ বলে খেলেছেন ১২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। বাঁহাতি ব্যাটিংদানবের সেঞ্চুরিতে ২৮ বল আর ৮ উইকেট আগেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় রংপুর।
শুরুতে রংপুরের দুই উইকেট নিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন জফরা আর্চার। ২৫ রানের মধ্যে দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরানো ছাড়া রংপুরের ইনিংসে খুলনার মনে রাখার মতো স্মৃতি নেই। বাকিটা শুধুই গেইলময়।
গেইল শো চলতে থাকে ম্যাচ রংপুরের পকেটে আসা পর্যন্ত। ক্যারিবীয় তারকা সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৪৫ বলে। তখন ১০টি ছয় ও ৬টি চারের মার ছিল। পরে সেটি পৌঁছায় ১৪টি ছয়ে। বিপিএলে কারও এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা।
টি-টুয়েন্টির যেকোনো আসরেই গেইল খেলে দেন এমনসব বিস্ফোরক ইনিংস। এবারের আসরে দুটি ফিফটি ছিল। ফিসফাস চলছিল তার জ্বলে ওঠার অপেক্ষা নিয়ে। জ্বললেন নকআউট পর্বে এসে। মাহমুদউল্লাহর পর রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফীও ইনিংসটার গুরুত্ব মনে করিয়ে দিলেন।
‘গেইল এমন ইনিংস না খেললে কঠিন হয়ে যেত। আমাদের ভাগ্য যে এর আগে বড় ইনিংস খেলতে হয়নি ওকে! তবে দুটি ফিফটি করেছে, কঠিন সময়ে কঠিন উইকেটে।’
শুক্রবার নামার আগের দিন প্লে-অফের বাকি তিন দল অনুশীলন করলেও হোটেলে বিশ্রামে কাটিয়েছেন রংপুরের খেলোয়াড়রা। সেই বিশ্রামের পরই গেইলের জ্বলেও ওঠা। মাশরাফীর মনে হচ্ছে গেইলের সেঞ্চুরির টোটকা হিসেবে কাজ করেছে এই বিশ্রামও!
‘গেইল সবসময় রিল্যাক্স থাকতে পছন্দ করে এবং রুমে ঘুমাতে পছন্দ করে। এটাই হয়ত ওর জন্য সুবিধা দেয়। মাঠে এসে রিল্যাক্স থাকা। আগের ম্যাচগুলোতে দেখেছি ওর মধ্যে তাড়াহুড়ো নেই। রান না পেলেও ওর মতো স্থির থাকে।’







