ওভারের দ্বিতীয় বল। ছোট রানআপে বল হাতে এগিয়ে আসছেন সাকিব। অফস্টাম্পের ওপরে ছিল বলটা। কোনো টার্ন ছিল না। দেখেশুনে সোজা ব্যাটে ঠেকিয়ে দিলেন মাহমুদউল্লাহ।
পরের বল। এবার অফস্টাম্পের সামান্য বাইরে ঝুলিয়ে দিলেন সাকিব! মাহমুদউল্লাহ কিছুটা ব্যাকফুটে এসে স্কয়ারকাটের ভঙ্গিতে ব্যাট নামাতে নামাতে থার্ডম্যানে কাট করে বসলেন। ডিপস্কয়ার থেকে বলের দিকে খানিকটা দৌড়ে হাল ছেড়ে দিলেন তামিম। বুঝে গেছেন ধাওয়া করে কোনো লাভ নেই। এ নির্ঘাত চার! চারই হলো। মাহমুদউল্লাহ ২৬ বলে পৌঁছে গেলেন ৪২ রানে! বোলিং প্রান্তে ফিরে যেতে যেতে সাকিব স্বভাবসুলভ হাসিটা ধরে রাখলেন ঠোঁটের কোনায়!
একই ওভারের চতুর্থ বল। সাকিব নির্লিপ্ত। কব্জির মোচড়ে স্পিন করার ভঙ্গি করে বাতাসে বল ছুঁড়লের দুবার। তামিম দৌড়ে এসে কি জানি বলে গেলেন! সাকিব এগিয়ে যাচ্ছেন। মাহমুদউল্লাহ প্রস্তুত। এবারের বলটা অফস্টাম্পের অনেকটা বাইরে পড়ল। মাহমুদউল্লাহ কিছুটা এগিয়ে এসে হাঁটু ভাঁজ করে সজোরে তুলে মারতে চাইলেন। সোজা মিড-উইকেটে, তামিমের হাতে। তামিম যে পজিশন বদলে ওখানে গেছেন মাহমুদউল্লাহর সেই হুশ হলো সর্বনাশের পরে!
মনখারাপ করে মাথা নাড়তে নাড়তে ফিরে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। সাকিব উল্লাসটা কমই করলেন। দৌড়ে এগিয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহর দিকে। ততক্ষণে তামিমও এসে পৌঁছেছেন। এগিয়ে এসেছিলেন আফ্রিদিও। হয়তো দারুণ ইনিংসটির জন্য পিঠ চাপড়ে দিতে চাইছিলেন! মাহমুদউল্লাহ পাত্তা দিলেন না! কিন্তু দুই জাতীয় দল সতীর্থকে দেখে হাঁটার গতি সামান্য কমিয়ে দিলেন। তামিম ও সাকিব দুপাশ থেকে মাহমুদউল্লাহর কাঁধে হাত রেখে কি জানি বললেন! এবার তিনজনের মুখেই হাসি। যদিও মাহমুদউল্লাহর হাসিটা একটু শুকনো।
মাহমুদউল্লাহ সীমানার বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ইনিংসে সাকিবের প্রথম উইকেট হয়ে। ততক্ষণে বোলিং মার্কে পোঁছে দাঁড়িয়ে আছেন সাকিব। তামিম এবার ডিপস্কয়ার লেগে। ওভারের পঞ্চম বল। সাকিব দৌড় শুরু করলেন।
একসময় সাকিবের চতুর্থ ওভারটা শেষ হলো। সাকিব এদিন একটি উইকেটই পেয়েছেন। তবে মাহমুদউল্লাহকে আউট করা হয়নি তার। সাকিবের বোলিং কোটা শেষ হওয়ার আগে যে ব্যাটিংয়েই নামা হয়নি মাহমুদউল্লাহর। তাই জাতীয় দলের তিন সতীর্থের এমন বিরল একটি দৃশ্যের কাছাকাছি কিছু দেখার সুযোগও হাতছাড়া হলো টাইগারপ্রেমীদের! ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়া এমন দৃশ্যের তো আর হরহামেশা দেখা মেলার সুযোগ নেই।
শনিবার রাতেও সেই সুযোগ মেলেনি। তবে পিএসএলে টিকে থাকার ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন সাকিব। ৪ ওভারে ২৫ রানে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রিলি রুশোর (৩ চার ২ ছয়ে ৩৪ বলে ৩৮) উইকেট নিয়েছেন। একটি ওভার মেডেনও নিয়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার।
তাতে সাকিব-তামিমের দল পেশোয়ার জালমি কোয়ালিফায়ারে যেতে মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে থামিয়ে দিয়েছে ১২৮ রানে। জয় তুলে নেওয়ার দায়িত্ব এখন ব্যাটসম্যানদের।
মাহমুদউল্লাহ অবশ্য তখন সুযোগ পাচ্ছেন দুই জাতীয় দল সতীর্থকে আউট করার। হয়তো ওপরের দৃশ্যকল্পের চেয়েও নাটকীয়-রোমাঞ্চকর কোনো দৃশ্যের অবতারণা হবে মাঠে। বল হাতে মাহমুদউল্লাহর কাছে ভালোকিছুর প্রত্যাশাই থাকবে কোয়েটার। ব্যাট হাতে অবশ্য এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। দুই বল খেলে ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন। এখন বোলিংয়ে ঘাটতিটা পুষিয়ে দেওয়ার পালা মাহমুদউল্লাহর। আর ব্যাটিংয়ে দলকে কোয়ালিফায়ারে টেনে নেওয়ার সুযোগ সাকিব-তামিমের।







