নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, তাকে নিয়ে এতো আলোচনা কেন? একটি ইস্যুতে একজনের ভিন্নমত থাকতেই পারে। সেজন্য তার পদত্যাগ দাবি করতে হবে? বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এটা মনে করে না।
এর আগে সাংবিধানিক পদে থেকে গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে গতকাল বুধবার ১৪ দলের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।
নাসিমের এমন বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীস্থ সেতু ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।
মাহবুব তালুকদার ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মাহবুব তালুকদার এর বিষয়টি নিয়ে এতো হৈ চৈ হচ্ছে কেন? আমি এটা জানি না। একজন একটি বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন। এতে কি নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে? আমি তো মনে করি ভিন্নমত পোষণ করার অধিকার যে কোনো নির্বাচন কমিশনারের রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে অন্য নির্বাচন কমিশনারদের ভিন্নমত হয়েছে। তাতে করে নির্বাচন কমিশনে কোন সংকট তৈরি হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমরা কেন নির্বাচন কমিশনে কারোও পদত্যাগ দাবি করবো!
মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের কোন যৌক্তিকতা আছে বলে কাদের মনে করেন না বলে এ সময় সাংবাদিকের জানান তিনি। এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের বিষয়। আমরা যখন দলীয় সভায় অংশগ্রহণ করি, তখন কি সবাই এক ইস্যুতে একমতে মিলিত হতে পারি? এখানে তো নির্বাচন কমিশন সেখানে ভিন্নমত হতেই পারে।
মোহাম্মদ নাসিমের এ বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বক্তব্য নয় জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, একজন ভিন্নমত পোষণ করলেই তার পদত্যাগ দাবি করতে হবে, এর কোন যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। এটা তার ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে। আমাদের দলীয় এমন কোন সিদ্ধান্ত নেই।
মাহবুব তালুকদার যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন সেটা আলাদা ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংগঠনিক এ নেতা। তবে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সেটা তার ব্যাপার। আমরা আওয়ামী লীগ থেকে কোন পদত্যাগ দাবি করছি না।
এর আগে গতকাল বুধবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বৈঠক নোট অব ডিসেন্টে বর্জন এবং গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যারা সাংবিধানিক পদে আছেন তাদের কিছু গোপনীয়তা রক্ষা করতে হয়। তিনি গণমাধ্যমে যেগুলো বলছেন, খুব অন্যায় করছেন।
‘এ ধরনের কথা বলছেন কেন? আলোচনার মধ্য দিয়ে মতবিরোধের সমাধান হতে পারে। আপনি কেন এসে প্রকাশ্যে বলবেন? আপনি এটা অন্যায় করছেন। এ ধরনের পদে থেকে এ ধরনের আচরণ উচিত নয়। অন্যথায় তার এ পদ ছেড়ে দেয়া উচিত’, বলেছিলেন মোহাম্মদ নাসিম।







