ব্যাটিংটা মন্দ হয়নি। টস হেরে ক্রিজে এসে বাংলাদেশ ৩০৫ রানের সংগ্রহ গড়েছে। কিন্তু এই সংগ্রহও ইংলিশদের কাছে পাত্তা পেল না। কারণটা নির্বিষ বোলিং। আর সেটাই আক্ষেপ অধিনায়ক মাশরাফির। আক্ষেপ কটা রান কম হওয়ারও।
উইকেটে শান্ত, স্বাভাবিক থেকে তিনশ পেরোনো রান তাড়া করেছেন হেলস-রুটরা। ১৬ বল হাতে রেখেই জয়, সেটিও মাত্র ২ উইকেট খরচ করে। বাংলাদেশকে কোন সুযোগই দেননি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। সুযোগ আদায় করে নেওয়ার মতো বোলিংটাও অবশ্য করতে পারেনি সফরকারীরা। স্পেশালিষ্ট স্পিনার হিসেবে একাদশে কেবল সাকিব। প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি তিনি। সবচেয়ে খরুচে তিনি, ৮ ওভারে ৬২ রানে দিয়ে উইকেটশূন্য।
পেসাররা তুলনামূলক খারাপ করেননি। রান দেয়ায় সবচেয়ে কিপটে অধিনায়ক মাশরাফি, ১০ ওভারে ৫৬ রানে এক উইকেট, রয়কে শুরুতেই সাজঘরে পাঠিয়ে দারুন শুরু এনেছিলেন। বাকি সময়টাতে ছিল ইংলিশদের চার-ছক্কার প্রদর্শনী। অথচ বোলিংয়ে মনোযোগ না দিয়ে বাংলাদেশ তিন পেসার আর কেবল এক স্পিনার নিয়ে খেলেছে।
মাত্র চারজন স্বীকৃত বোলার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে টাইগাররা। সিদ্ধান্তটা যে সঠিক ছিল না সেটি বুঝতে পারছেন মাশরাফিও। অন্তত পাঁচজন স্পেশালিষ্ট বোলার ছাড়া ওভালের ব্যাটিং স্বর্গে যে লড়াই চলে না সেটি বেড়িয়ে এল অধিনায়কের কণ্ঠে, ‘প্রথম ম্যাচ, তাই একজন বেশি ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলেছি। এটা নিয়ে ভাবতে হবে। সামনে মূল বোলারদের ভালো করতে হবে। বাড়তি একজন বোলার নিয়েও চিন্তা করতে হবে।’
তিনশ’র বেশি রান করে এর আগে কখনও বিদেশের মাটিতে হারেনি বাংলাদেশ। সেটিও দেখতে হল ওভালে। লন্ডনে গ্রীষ্মকালে এসে যে রানের ফল্গুধারা দেখতে হবে সেটি তো জানাই ছিল। দুইদিন আগে প্রস্তুতিতে ভারতের বিপক্ষে ৮৪ রানে অলআউট হওয়ার দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে ৩০৫ রানের সংগ্রহ, নেহাত মন্দ নয়। তবে রান তিনশ পেরোলেও ১৫-২০টা রান কমই মনে হল শেষ পর্যন্ত।
শেষ দিকে আরেকটু চালিয়ে খেলতে না পারার আক্ষেপ তাই মাশরাফির, ‘শুরুতে উইকেটে সুইং ছিল। ব্যাটসম্যানরা একটু সময় নিয়েছে। তবে পরে সাত-আট উইকেট হাতে রেখে আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল।’
বাংলাদেশের ব্যর্থতা দূরে সরিয়ে রাখলে চোখে পড়বে কেবল ইংলিশদের দুর্দান্ত ব্যাটিং। তিনশ’র বেশি রান তাড়া করতে হলে কীভাবে খেলতে হয়, তার প্রদর্শনীই যেন হয়ে গেল ওভালে। যেটিকে মূল্যায়নই করছেন টাইগার অধিনায়ক, ‘তারা অসাধারণ ব্যাটিং করেছে, ম্যাচটা আমাদের হাত থেকে নিয়ে গেছে।’








