বায়ুদূষণের কারণে ৭৫ জন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় মালয়েশিয়ার জোহর প্রদেশের ৪শ’র বেশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
বিবিসি জানিয়েছে, বন্ধ ঘোষিত স্কুলগুলো জোহরের পাসির গুদাং শিল্পাঞ্চল ও এর আশপাশে অবস্থিত। সাম্প্রতিক বায়ুদূষণ পরিস্থিতি প্রদেশটিতে কেমন আঘাত হেনেছে তা অনুসন্ধান করছে।
তাই আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্কুলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
জোহরের মুখ্যমন্ত্রী ডা. সাহরুদ্দিন জামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পাসির গুদাংয়ের ১৫টি স্কুলের ৭৫ জন শিক্ষার্থী তাদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে বমি করতে শুরু করলে তাদেরকে সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই অসুস্থতার কারণ স্পষ্ট নয় বলে আগে জানালেও পরে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ধারণা করা হচ্ছে আকস্মিক বায়ুদূষণের কারণে এ অবস্থা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষিত স্কুলগুলোর মধ্যে শতাধিক সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩শ’র মতো বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।
এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আগে একবার এ ধরনের ঘটনা ঘটার পর আবারও এমন কিছু হওয়ার কথা ছিল না। তারপরও হয়েছে, যা মেনে নেয়া যাচ্ছে না।
গত মার্চেও এ এলাকায় বেআইনিভাবে কিম কিম নদীতে ৪০ টন রাসায়নিক বর্জ্য ঢালার কারণে পানি দূষিত হয়ে সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই গ্যাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে প্রায় ৪ হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে সময়। তাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু।
মার্চের অসুস্থতার লক্ষণও অনেকটা একই রকম ছিল: শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বমি।
নদীতে ফেলা রাসায়নিক বর্জ্য বিশ্লেষণ করে অন্তত ১৫ রকম রাসায়নিক শনাক্ত করেছিল ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। এর মধ্যে বর্ণহীন এবং অতি বিষাক্ত হাইড্রোজেন সায়ানাইডও ছিল।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পরে মালয়েশিয়া সরকার দুই মালয়েশীয় এবং এক সিঙ্গাপুরি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল।
অবশ্য ডা. সাহরুদ্দিনের দাবি দু’টো ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
দ্য মালয় মেইলকে ডা. সাহরুদ্দিন বলেছেন, ‘কিম কিম নদীর সব রাসায়নিক বর্জ্য পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।’







