গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত তদন্ত তদারকির দায়িত্ব পড়েছে সাবেক এফবিআই প্রধান রবার্ট মুয়েলারের ওপর। মার্কিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোজেনস্টাইন এক বিবৃতিতে বলেন, জনস্বার্থেই প্রশাসনের বাইরের কাউকে এই তদন্তভার দেয়া হয়েছে।
রবার্ট মুয়েলার পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
মুয়েলারের মতো একজন ব্যক্তিকে তদন্তের প্রধান করার এ সিদ্ধান্ত ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দু’পক্ষ থেকেই ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কোমি এর আগে এই তদন্তটি করছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে তাকে পরিচালকের পদ থেকে বরখাস্ত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়।
কোমিকে সরানোর পর থেকেই তদন্তটির নেতৃত্ব দেয়ার জন্য একজন বিশেষ কৌসুলি নিয়োগের দাবি উঠতে থাকে। তার ধারাবাহিকতায় তদন্ত তদারকির দায়িত্ব পেলেন মুয়েলার।
বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তিনি বুধবার মার্কিন সরকারের সন্ত্রাস দমন বিষয়ক গোপন কিছু তথ্য রাশিয়ার কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সার্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে তিনি দেখা করার পর যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোতে এমন কথা ছড়িয়ে পড়ে।
গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের সম্পর্ক ঠিক কী ছিল সেটা নিয়ে তদন্ত করার সময় কোমিকে ওই তদন্ত বন্ধ করতেও বলেছিলেন ট্রাম্প। আর সেই নির্দেশ অমান্য করায় কোমি বরখাস্ত হন।
এ অভিযোগটি অবশ্য ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন। আর রাশিয়ার সঙ্গে গোপন তথ্য ফাঁসের ব্যাপারে সরাসরিই বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ এবং বিমান সংস্থার নিরাপত্তা বিষয়ক গোপন বিষয়ে আলাপ করার ‘যথার্থ অধিকার’ তার রয়েছে।
কিন্তু রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, গত সপ্তাহের বৈঠকে কোনো গোপন তথ্য ফাঁস হয়নি। এর প্রমাণ হিসেবে বুধবারের ওই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তিনি মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পাঠানোর কথাও বলেন।
তবে কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট- দু’ দলের প্রতিনিধিই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন বলে জানায় বিবিসি।








