ব্যবসা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সীমাবদ্ধতা কমিয়ে আনতে পারলেও অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সময় সময় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং দুর্নীতি বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ‘ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট স্টেটমেন্ট’-এ অন্য দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ব্যাখ্যা দিয়ে এতে বলা হয়, সরকার ও বিরোধীদলের সমর্থক ছাড়াও একই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বি সমর্থক এবং তাদের ছাত্র ও যুবসংঘের মধ্যেও প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা সাধারণ ধর্মঘট ও অবরোধ এবং সহিংসতার হুমকি দিয়ে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখা ও পরিবহন অবরুদ্ধ রাখার ফলেও উৎপাদন কমে যায় এবং খরচ বৃদ্ধি পায়; যার প্রভাব পড়ে ব্যবসার ওপর।
রিপোর্টে বলা হয়, আন্দোলন কর্মসূচির সময় পরিবহন ও অন্যান্য সম্পত্তি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঝুঁকিতে থাকে এবং দোকান-পাটে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
তবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সেটা পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
তাদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি ব্যব্সা-বাণিজ্যে অন্য একটি অন্তরায়: দুর্নীতি। সরকার ঘুষ, আত্মসাৎ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে যেসব আইন করেছে সেগুলো অপর্যাপ্ত।
রিপোর্টে বলা হয়: দুর্নীতি দমনে একমাত্র প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি শক্তিশালী দুদক প্রতিষ্ঠার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে সম্প্রতি আইন সংশোধনের ফলে দুদকের স্বাধীনতা কমে যাওয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে এর প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যাহত হবে।
এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে দুর্নীতি খুবই সাধারণ ব্যাপার। দুর্নীতি এবং ঘুষের ঘটনা ব্যবসার খরচ এবং ঝুঁকি দুটিই বাড়িয়েছে। কেউ কেউ মনে করে, দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপি দুই থেকে তিন শতাংশ কমে যা্চ্ছে।
মার্কিন রিপোর্টে তাদের দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য রিপোর্টে বলা হয়, বিবাদ মীমাংসার ক্ষেত্রে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা এবং ধীর বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের বিরোধ সমাধানেও ব্যাঘাত ঘটে।
এতে আরো বলা হয়, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ব্যাপক না হলেও সরকার ঘন ঘন দেশীয় শিল্পের প্রচার করে এবং সেখানে কিছু বৈষম্যমূলক নীতি ও নিয়মকানুনের অস্তিত্ব আছে। মুনাফার অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে অনুমতি দেয়া হয় এবং এজন্য চলতি অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনযোগ্য। তবে বিদেশী কোম্পানির টাকা দেশে ফিরিয়ে নেয়ার পদ্ধতি বেশ দীর্ঘ ও কিছুটা কষ্টকর।







