নিধাস ট্রফি ভালো যায়নি। ব্যাটিং-অর্ডার বদলেও সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য সরকার। পাঁচ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৫০ রান। আরেকটি টি-টুয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে টাইগার ওপেনারের সামনে ফিরে আসছে পেছনের বাজে স্মৃতি।
হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সৌম্যকে আফগান সিরিজের দলে রাখার ব্যাপারে কয়েকবার ভাবতে হয়েছে নির্বাচকদের। তবে কোচ-অধিনায়কের চাওয়ায় এ বাঁহাতি শেষপর্যন্ত টিকে গেছেন ১৫ সদস্যের দলে।
সাদা বলের ক্রিকেটে সৌম্য একসময় ছিলেন দলের ‘অটোমেটিক চয়েস’। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাবে অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে। শুনতে হয় ভক্তদের সমালোচনাও। কিন্তু সৌম্য এসব কথায় কান না দিয়ে ভাবছেন শুধু নিজের প্রস্তুতি নিয়েই।
‘শেষ কয়েক ম্যাচ তো ভালো করিনি। নিজের কাছে তাগিদ থাকে ভালো করার। তারপরও মানুষের কথা শুনলে মনে হয় আসলেই খারাপ খেলছি। যত কথা শুনি তত মনে পড়ে। চেষ্টা করি এসব না শুনে অনুশীলনে জোর দিতে।’
জুনের প্রথম সপ্তাহে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। মিরপুরে শুরু হয়েছে ব্যাট-বলের স্কিল অনুশীলন। সেন্টার উইকেটে নেট ব্যাটিংয়ে নামার আগে সৌম্য জানালেন দলের প্রস্তুতি, ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথাও।
‘সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত ভালো অনুশীলন করেছি। মোস্তাফিজ আর সাকিব ভাই বাদে আমরা যারা আছি, সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। যার যেখানে ঘাটতি আছে তা নিয়ে কাজ করছে। তার আগে ফিটনেস ক্যাম্পও করলাম। আমাদের সেরাটা দিতে পারলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমরাই এগিয়ে থাকব।’
‘নিজের কাছে চাওয়া থাকে একটা খেলার শুরু থেকে ভালো খেলব, শুরুটা ভালো হলে লক্ষ্যটা সহজ হয়ে যায়। শুরুটা ভালো করার চেষ্টা করি। একটা পরিকল্পনা থাকে। যদি লক্ষ্য ছোট হয় তাহলে তো সফল হওয়ার সুযোগ কম। অবশ্যই বড় পরিকল্পনা থাকে। যখন পারি, নিজের ভেতর খুশি থাকি যে আমার মতন পেরেছি।’ যোগ করেন সৌম্য।
প্রতিভা-সামর্থ্যের চেয়ে ধারাবাহিকতার অভাবের কথাই সৌম্যকে শুনতে হয় বেশি। দারুণ শুরুর আশা জাগিয়ে দ্রুত সাজঘরে ফিরে যাচ্ছেন বেশিরভাগ সময়ই। এই ঘেরাটোপ থেকে বের হতে চান সৌম্য নিজেও।
‘সবাই চায় ভালো করার জন্য। প্রত্যেকদিনই তো ভাল করা যায় না। প্রত্যেকদিন ভালো করলে চাওয়া-পাওয়ার শক্তিটা কমে যায়। যেহেতু খারাপ সময় দিয়ে যাচ্ছি, ওখান থেকে কে কতটা কঠোর পরিশ্রম করে আগাতে পারি ওটাই চিন্তা করি।’
‘আমি চেষ্টা করি আমার জায়গায় আমারটা খেলার। ভালো খেলারই চেষ্টা করি, তারমধ্যে খারাপ-ভালো মিলিয়ে হয়ে যায়।’ এমন উপলব্ধির কথাই জানালেন সৌম্য।
ব্যাটসম্যানদের খারাপ সময় যাবেই। সেই সময়টা দীর্ঘ হলে বিপদে পড়ে দল। সৌম্য সেটি ভালোই বোঝেন। এখন ব্যাটে রান আনতে পারলেই বাংলাদেশ দল উপকৃত হয়।







