রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার ভোরে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে র্যাব ও পুলিশের ১৪ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় এলিটফোর্স র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তেজগাঁও রেললাইন বস্তি এবং মহাখালী সাততলা বস্তি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কামরুল নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে র্যাব-২ এর একটি দল মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মাদক ব্যবসায়ী কামরুল নিহত হয়। আহত হয়েছেন দুই র্যাব সদস্য।
নিহত কামরুল ১৫টির অধিক মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব।
কুমিল্লা
কুমিল্লায় থানা ও ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল (৫১) নামে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের মহিষমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কেজি গাঁজা ও একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে ডিবির এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার, এএসআই সাহাবুল হোসেন ও কনস্টেবল সুমন মিয়া আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে হানিফ ও ইলিয়াস নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। নিহত ওই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বুড়িচং ও কোতয়ালি মডেল থানায় ১২টির অধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, কালীগঞ্জ পৌর এলাকার আড়পাড়া নামক স্থানে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শামীম সরদার (৪৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ৫০০ পিস ইয়াবা ও ১৭ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীমের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় ৯টি মাদক মামলা রয়েছে।
নেত্রকোণা
নেত্রকোণা সদরের মদনপুর ইউনিয়নের মনাং এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত পরিচয়ের ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে ওই ইউনিয়নের মনাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ৭০৫ গ্রাম হেরোইন, ৩ হাজার ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২টি পাইপগান উদ্ধার করে পুলিশ।
মডেল থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন খান জানান, মাদক কেনাবেচা হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশের একটি টিম অভিযানে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে পুলিশের দুই কর্মকর্তা ও এক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।
সাতক্ষীরা
জেলার কলারোয়া উপজেলায় বন্দুকযুদ্ধে ইউনুস আলী দালাল নামের একজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর-বড়ালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউনুস উপজেলার দক্ষিণ ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল্লাহ দালালের ছেলে।
পুলিশ জানায়, রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর-বড়ালি সীমান্তে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে ইউনুস নিহত হয়। বাহিনীর দাবি, সে একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ান শ্যুটার গান, দুই রাউন্ড গুলি ও ৭০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে বলেও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
শেরপুর
শেরপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালু ডাকাত পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার
এছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ি এলাকা বড় মহেশখালীর মুন্সির ডেইল পাহাড়তলী গ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোস্তাক আহমদ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ত্রিমুখী গোলাগুলি হওয়ায় কার গুলিতে মোস্তাক মারা গেছেন তা নিশ্চিত না হলেও পুলিশের দাবি দু’গ্রুপের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ই মোস্তাক নিহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা, ৭ রাউন্ড কার্তুজসহ ৪টি থ্রি কোয়ার্টার বন্দুক জব্দ করেছে। মোস্তাকের বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র মামলা, একটি পুলিশ অ্যাসল্ট ও আরেকটি মাদক মামলা রয়েছে।
মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, রাত ১০টার দিকে বড় মহেশখালীর মুন্সির ডেইল পাহাড়তলী এলাকায় গোলাগুলির সংবাদ পেয়ে থানার এএসআই সঞ্জীব দত্ত, জুয়েলসহ বেশ কজন অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযানে যায়। এসময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে।
গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশজুড়ে চলা মাদকবিরোধী অভিযানে অন্তত ৫৮জন নিহত হয়েছে।








