মাদক আইনকে শক্তিশালী ও বেগবান করতে নীতিমালা করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় একটি সভার কথা জানিয়েছেন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী। দেশের মাদকাসক্তদের সঠিক সংখ্যা জানা নেই বলেও জানিয়েছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তেজগাঁওস্থ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদকের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে সারাদেশে মাদকবিরোধী ‘তথ্য অভিযান’ সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মাদকের তথ্য অভিযান কেন শুরু করা হচ্ছে জানতে চাইলে মাদক দ্রব্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, মানুষের মধ্যে একটা সচেতনা সৃষ্টি ও বৃদ্ধি করতে করতে এ অভিযান। এছাড়াও মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করলে মাদক দূর করা সম্ভব হবে। আমরা মানুষের সচেতনতা সৃষ্টি করে যেভাবে এসিড সন্ত্রাস দূর করেছি ঠিক সেভাবে আমরা মাদককে রুখে দিতে সক্ষম হবো।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, মাদক আইনকে আরো শক্তিশালী ও বেগবান করতে আগামী ১৩ মার্চ খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় একটি সভা রয়েছে। আশা করছি এরপর এটা ক্যাবিনেটে যাবে। আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে মাদক আইন শক্তিশালী করার আশা প্রকাশ করছি।
মিয়ানমার থেকেই অধিকাংশ সময় দেশে মাদক ঢুকে, এ ব্যাপারে মিয়ানমারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মিয়ানমার থেকে মাদক আসা বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকদিন আগেই মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে।আমরা তাদের মাদকের পঞ্চাশটি ফাক্টরির তালিকাসহ নানা আইনগত দিক নিয়ে কথা বলেছি। আমরা আশা করেছি এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।আমাদের তারা মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করলেও কার্যক্রমের দিক দিয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করছি না।

জেলখানার অভ্যন্তরে কতো মাদকাসক্ত রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে অধিদফতরের কাছে সুনিদিষ্ট কোনো তথ্য নেই, এমনকি দেশে কতো মাদকাসক্ত রয়েছে তা নিয়েও কোনো সার্ভে বা গবেষণা হয়নি।
স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ঢুকছে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মাদক অধিদফতরের ডিজি বলেন, স্কুল পর্যায়ে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করা হয়েছে, স্কুলের প্রত্যেক শিক্ষক যদি মাদকের ভয়াবহতা ক্লাসে এক মিনিট করে তুলে ধরেন তাহলে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মাদকের সর্বনাশা ছোবল কমে আসবে।
মাদক অধিদফতরের সার্কেল ইন্সপেক্টরদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শোনা যায়। তাদের তৎপর হতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে উত্তরে ডিজি বলেন, কর্মীদের প্রকৃত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে কর্মীরা নানা কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হচ্ছেন, অধিদফতরেও জবাবদিহি করছেন। কেউ যদি কাজে গাফলতি এবং দায়িত্ব অবহেলা করে তাদের অধিদফতরে চাকরিতে অব্যাহত রাখা হবে না।







