মাদক নির্মূলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর থেকে সারাদেশে চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর মাদকবিরোধী অভিযান। এ অভিযানে বিভিন্ন জেলায় গত প্রায় দু’সপ্তাহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী র্যাব-পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে, এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দলের মধ্যে গোলাগুলিতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০৮ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের সবার বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে।
১৪ মে থেকে জোরালোভাবে শুরু হওয়া অভিযানে ২১ তারিখ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩২ জন বিভিন্ন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এর মধ্যে ১৪ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ ও কুষ্টিয়ায় ২ জন, ১৫ মে নারায়ণগঞ্জে ১ জন, ১৬ মে ৩ জন, ১৭ মে রাতে চট্টগ্রামে ২ জন, ১৮ মে যশোরে ৩ জন, ১৯ মে ময়মনসিংহ, ফেনী, দিনাজপুর ও বরিশালে ৫ জন, ২০ মে রাতে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, নরসিংদী ও টাঙ্গাইলে ৮ জন এবং ২১ মে রাতে নীলফামারী, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
২২ মে দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, ফেনী, কুমিল্লা, জামালপুর, রংপুরসহ ৭ জেলায় র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কমপক্ষে ৮ জন নিহত হয়।
২৩ তারিখ দিবাগত রাত থেকে ২৪ তারিখ সকাল পর্যন্ত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও গোলাগুলির ঘটনায় কুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সাতক্ষীরা, মাগুরা ও নারায়ণগঞ্জে ৯ জন নিহত হয় বলে জানায় র্যাব-পুলিশ।
২৪ মে রাত থেকে ২৫ মে ভোর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় হওয়া কথিত বন্দুকযুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ কুমিল্লা, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, শেরপুর ও কক্সবাজারে ৮ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।
এছাড়া ২৫ মে সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের হিমছড়ির ২ নং ব্রীজ থেকে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বেয়াই ও টেকনাফের কথিত ‘ইয়াবা ডন’ এবং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আকতার কামালের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মেরিন ড্রাইভ সড়কে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রুপের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার মৃত্যু হয়েছে।
২৫ মে দিবাগত রাতে হওয়া ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কুমিল্লা, চাঁদপুর, দিনাজপুর, বরিশাল, জয়পুরহাট, পাবনা, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ ও ঠাকুরগাঁওয়ে মোট ১০ জন নিহত হয়।
এছাড়াও দিনাজপুর ও বরগুনার কোমরাখালীতে মাদক ব্যবসায়ীর দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ২ জনের।
২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে ভোর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফ পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. একরামুল হক ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, বাগেরহাট ও চাঁদপুরে ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে মেহেরপুর ঝিনাইদহ ও ময়মনসিংহে ৩ জন নিহত হয় বলে জানায় পুলিশ।
২৭ মে রাতে রাজধানীসহ কুমিল্লা, চাঁদপুর, নাটোর, মুন্সিগঞ্জ ও পিরোজপুরে র্যাব-পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন এবং ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসায়ীদের দু’দলের মধ্যে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হওয়া গোলাগুলিতে ৫ জনের মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ ২৮ মে রাতে ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, ঠাকুরগাঁও ও বরগুনায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর ও সাতক্ষীরায় দুই গ্রুপ মাদক ব্যবসায়ীর গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে আরও ৪ জন।
অন্যান্য সূত্র অনুসারে, গত দু’সপ্তাহে মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি।
এছাড়া এসব বন্দুকযুদ্ধে র্যাব-পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।








