একসময় ঘর ছিলো, ছিলো নিজেদের ভূমি। সেসবই আজ অতীত। কিছুই আর অবশিষ্ট নেই নিজেদের জন্য। ঠাঁই হয়েছে উদ্বাস্তু শিবিরে। তবু নিশ্চয়ই আশা শেষ হয়ে যায়নি। তাইতো ফিলিস্তিনের ধেইসি উদ্বাস্তু শিবিরে বসবাস করেও সেখানকার উদ্বাস্তুরা ছাদের উপরে গড়ে তুলেছেন একটুকরো সবুজ। সেখানেই ফলাচ্ছেন বেগুন, টমেটো, শসার মতো উপাদানগুলো।
হিজার হামদান আল-আয়েসের হাত ধরেই এই সবুজায়ন প্রক্রিয়ার শুরু। বেথেলহামের সাউদার্ন ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক টাউনের এই উদ্বাস্তু শিবিরে প্রায় ১৫০০ মানুষ বাস করে।
কিন্তু মাটির ব্যবহারতো দূরের কথা ঠিক করে মাটির দেখাও যেন তারা পাননা। মাটি নেই তাতে কি, ছাদতো আছে। ছাদেই গাছ লাগানো শুরু করেন হিজার।
ছাদতো বটেই, তিনি চান উদ্বাস্তু শিবিরের সরু রাস্তাগুলোও সবুজে ছেয়ে যাক। পাইপ কেটে তার মধ্যে মাটি দিয়ে গাছ নাগান হিজার।
এই উদ্বাস্তু শিবিরে বসবাসকারীদের আগে বাসস্থান আগে ছিলো ফিলিস্তিনের প্রায় ৪৫টি গ্রামে। যেগুলোর অস্তিত্বও এখন নেই।
‘প্রভু আমাদের ভূমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু আমরা মাটি ছাড়া থাকবো কি করে? তাই ছাদের উপরেই গড়ে তুলেছি সবুজের সমারোহ।’ এমনটাই বলেন আয়েশ যার বাবা-মা ১৯৫২ সালে হারবনের কাছের জাকারিয়া গ্রাম থেকে পালিয়ে এসে অংশ নিয়েছিলো এই উদ্বাস্তু শিবিরে।
আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি স্বস্তির বিষয় হবে যদি আমরা আবার নিজেদের ভূমিতে ফেরত যেতে বা সেগুলো আবার খুঁজে পায়-বলছিলেন আয়েশ।
স্থানীয় শিবির নির্ভর একটি এনজিওর কর্মী ইয়াসের আল-হাজ বলেন, এই ধরনের বাগান করলে নিশ্চয়ই তাদেরও ভালো লাগবে। মাটির সাথে থাকতে গিয়ে মনে হবে যেন জমির সাথে যুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। এমনকি দেশটির সাথেও যুক্ত হয়ে যাবেন ধীরে ধীরে।
উদ্বাস্তু শিবিরের আরেক অধিবাসী জানালেন, বয়স প্রায় ১০০ ছুঁতে চলেছে তার। শুরুতে থাকার জন্য কোনো ঘরই ছিলো না। একটা সময় পেরিয়ে ৬৫ স্কয়ার ফিটের একটি ঘরে ১২ জনের সঙ্গে বাস করার সুযোগ পান তিনি। পরে সেখানেই ছোট্ট একটা বাগান গড়ে তোলেন তিনি।
৭৬০,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনী ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলো। ঘরহারা এইসব উদ্বাস্তুর সংখ্যা এখন ৫.৫ মিলিয়ন। তারা ছড়িয়ে আছে সিরিয়া, লেবানন ও জর্ডানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
উদ্বাস্তু শিবিরের বাসিন্দাদের করার মতো কোনো কাজ নেই, নেই হাতে কোনো টাকা। রেড ক্রস বা জাতিসংঘের সাহায্যের উপরই নির্ভরশীল। এর মধ্যে থেকেও সবুজের জন্য এমন ভালোবাসা মন কেড়েছে অনেকেরই।






