মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে গত দুই বছরে বাংলাদেশ ২১.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি।
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)’র বরাতে প্যান এশিয়ান মিডিয়ার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের ঝামেলামুক্ত এবং নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) তার ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৫৬টি সরকারি পরিষেবাকে একীভূত করেছে।
মহামারির শুরু থেকে বিডা ১৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রেকর্ড করেছে।বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বিনিয়োগ প্রস্তাব রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)’র ১.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বিনিয়োগ প্রস্তাব আকর্ষিত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ২.৫ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) পেয়েছে, যেখানে ২০১৯-২০২০ সালে ২.৩৭ বিলিয়ন ডলার এফডিআই পেয়েছে।
কোভিড- ১৯ এর কারণে একাধিক লকডাউন থাকা সত্ত্বেও এই বিনিয়োগ প্রস্তাব চারটি সরকার-চালিত বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা (আইপিএ) গ্রহণ করেছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে প্রতিফলিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
২০২০ সালে ৭.১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষিত করেছে বিডা, যার মধ্যে ৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রস্তাব স্থানীয় বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসেছে।
বিডা’র পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২১ সালে (২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত), বিনিয়োগ প্রস্তাবের মোট পরিমাণ ৭.৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে যার মধ্যে ৬.৮৫ বিলিয়ন ডলার স্থানীয় বিনিয়োগ এবং ৮০৬.২৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিদেশী/যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব রয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলা বলেন, এ অসাধারণ সাফল্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ঠিক এই সময়েই আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছি। এটি একটি অভূতপূর্ব এবং চ্যালেঞ্জিং সময়ে অর্জন করেছি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ জুন, ২০২২-এ শেষ হওয়া এই অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হবে ৬.৬ শতাংশের বেশি।
এর আগে গত সপ্তাহে আইএমএফ দলের প্রধান রাহুল আনন্দ বলেছিলেন, কোভিড- ১৯ মহামারির আঘাত সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং দূরদর্শী পদক্ষেপের প্রভাবে প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল একেএম জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা বিদ্যমান আটটি ইপিজেড ছাড়াও আরও তিনটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এবং একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, যেখানে বিনিয়োগকারীরা তাদের সমস্ত বিনিয়োগের প্রয়োজনে ওয়ান-স্টপ পরিষেবা পেতে পারেন।







