মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশ্যে সোমবার পৃথিবী ছাড়তে তৈরি হচ্ছে নতুন একটি স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ। ইউরোপ ও এশিয়ার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত নতুন অভিযানের অংশ হিসেবে কাজাখস্তানের বাইকোনুর এলাকা থেকে এ স্যাটেলাইটটি মঙ্গলগ্রহের পথে যাত্রা করবে।
এক্সোমার্স ট্রেস গ্যাস অরবিটার বা টিজিও নামের স্যাটেলাইটটি সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩.৩১ মিনিটে পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করবে। একে একটি প্রোটন রকেটের সাহায্যে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে।
পৃথিবী থেকে প্রতিবেশী লাল গ্রহে পৌঁছাতে স্যাটেলাইটটির সময় লাগবে ৭ মাস। আগামী ১৬ অক্টোবর পৌঁছানোর তিন দিন পর ১৯ তারিখে শিয়াপারেলি নামের একটি ছোট ল্যান্ডিং মডিউল মঙ্গলের পৃষ্ঠে নামবে। নামতে নামতেই বায়ুমণ্ডল ও ভূ-পৃষ্ঠের ছবি তুলে পাঠাবে শিয়াপারেলি। আর সফল অবতরণ হলে মঙ্গলগ্রহের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের কাজও করবে মডিউলটি।
মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাসের অস্বাভাবিক উপস্থিতি বহু বছর ধরে পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে এসেছে। কেননা অনেকের মতে, বায়ুমণ্ডলে মিথেন থাকার অর্থ হলো মঙ্গলগ্রহে কোনো না কোনো ধরণের আণুবীক্ষণিক প্রাণের উদ্ভব হয়েছে।
এ নতুন অভিযানের উদ্দেশ্য হলো মিথেনসহ গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করা।
অভিযানের প্রধান ইউরোপীয় কন্ট্রাকটর থ্যালিস অ্যালেনিয়া স্পেস’র ওয়ালটার কুগনো জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত রকেট লঞ্চ প্রক্রিয়ার সব কিছু ঠিকঠাকভাবেই চলছে। বড় কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে বিবিসিকে তিনি বলেন, বেঁধে দেয়া অল্প সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
উৎক্ষেপণের পর এক্সোমার্স টিজিও-কে মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার সঠিক গতিপথে তুলে দিতে প্রোটন ব্রিজ-এম রকেটটির ১২ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।
জার্মানির ডার্মস্ট্যাটে অবস্থিত ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির অপারেশনস সেন্টার থেকে আশা করা হচ্ছে, স্যাটেলাইটটি গতিপথে ছাড়ার অল্পসময়ের মধ্যেই, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ৩.২৮ মিনিটের দিকে সেটি থেকে সংকেত আসা শুরু করবে।
এই এক্সোমার্স অভিযানের দ্বিতীয় অংশ হিসেবে পৃথিবী থেকে আরেকটি যান ২০১৮ সালে পাঠানোর কথা। তবে এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।







